বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কার্যালয়ের সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলাম, যেন অফিসকে বানিয়ে ফেলেছেন ‘কমিশন বাণিজ্যের’ কারখানা। যেখানে টেন্ডার প্রক্রিয়া দরপত্রের প্রতিযোগিতায় নয়, চলে কমিশনের দরকষাকষি। আর এই কমিশন বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন স্বয়ং মো. শরিফুল ইসলাম নিজেই। গড়ে তুলেছেন একটি সংঘবদ্ধ শক্ত সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের টেন্ডার পাইয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ওই কর্মকর্তার কমিশন দাবির একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত কমিশন দাবি করছেন। এমনকি হুমকির সুরে কমিশন না দিলে টেন্ডার ও বিল আটকে রাখার কথাও তিনি একাধিকবার জোর দিয়ে বলেন। এসব ঘটনায় রেলওয়ের কার্যালয়ে কর্মরত ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
৪ জানুয়ারি (রোববার) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক অফিস আদেশে শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হয়।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, এতসব অনিয়ম আর অপরাধ করার কারণেই মূলত শরিফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ছাড়তে হচ্ছে। তাকে বদলি করে রেলওয়ের ঢাকা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। রেলওয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে অনিয়মের মাধ্যম বানানো, কমিশন বাণিজ্য এবং আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারদের প্রশ্রয় দেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অফিস আদেশে তার স্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়, রেলওয়ে সিআরবি কার্যলয়ের সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো. আলমগীর কবিরকে।
রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, রাত হলে গোপনে আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠক করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশনের দরকষাকষি করেন।
জেএস/ডিজে




