ফাইনাল পথে ভারত ফেভারিট নয়

0

২০১৫ সালের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড টানা দ্বিতীয় বারের মতো ফাইনান খেলার আশা নিয়ে আজ ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ড মাঠে নামবে ১৯৮৩ ও ২০১১ সালের চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৫ সালের সেমিফাইনালিস্ট ভারতের বিপক্ষে। বড় দল এবং বড় ম্যাচের চাপ থাকবে বিধায় ভারত আজ ফেভারিট হয়েও ফেভারিট নয়।

আজকের ভেন্যু ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ড এর উইকেট স্পিন বান্ধব বলে পরিচিত। এখানেই ১৯৯৩ সালে শেন ওয়ার্ন মাইক গেটিংকে ‘বল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ ডেলিভারিটি করে আউট করেছিল। এ ছাড়া এ মাঠেই ইংল্যান্ড স্পিনার জিম লেকার এক ইনিংসে ১০ উইকেটসহ একই টেস্টে ১৯ উইকেট নিয়েছিল।

এই বিশ্বকাপে ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ড এর উইকেট একটি আদর্শ উইকেট হিসেবে আচরণ করেছে। স্পিনারের সাথে পেসাররাও এখানে উপযুক্ত মর্যাদা পেয়েছে; ব্যাটসম্যানদেরকেও বিমুখ করেনি এই উইকেট। এই মাঠে সর্বশেষ ৬ জুলাই দ. আফ্রিকার ৩২৫ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৩১৫ রান করে হারে। এখানে এই বিশ্বকাপে ভারত আগে ব্যাট করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৩৬ রান এবং উইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২৬৮ রান করে যথাক্রমে ১১৪ ও ১২৮ রানে জয় লাভ করে। অন্যদিকে ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ডে এই বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড আজকের আগে একটি মাত্র ম্যাচ খেলে ; সেই খেলায় উইন্ডিজের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ২৯১ রান করে মাত্র ৫ রানে জয় পায়।

এখানে আগের পাঁচটি ম্যাচে আগে ব্যাট করা দলই বিজয়ী হয়েছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডে ক্রিকেট উপযোগী আবহাওয়া বিরাজ করছে। আবহাওহার বিশেষ কোন পরিবর্তন না হলে টস জয়ীরাই আগে ব্যাট বেছে নেবে। আজ নির্ভর করার জন্য ৩০০ রান প্রয়োজন হবে, ফাইনাল নিশ্চয়তার জন্যে ৩৫০ রান হলেও চলবে।

ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ড পুরোনো চেহারা ফিরে পেলে নিউজিল্যান্ডের জন্য চাহাল-কুলদীপ-জাদেজার যে কোন দুজনই ‘ঘূর্ণিঝড়’ ডেকে এনে ব্যাটিং লাইন তছনছ করে দিতে পারে। উইকেট সর্বশেষ দ. আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের মতো পক্ষপাতহীন আচরণ করলে আমরা জমজমাট একটা সেমিফাইনাল দেখতে পাবো।

নিউজিল্যান্ডকে সহজে কুপোকাত করতে হলে ভারতকে সামি-বুমরার সাথে স্পিন জাদুটা শতভাগ দেখাতে হবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য ভারত বধের সহজ ‘প্রেসক্রিপশন’ হলো ব্যাটিং লাইনের মাথা (টপ অর্ডার) মুড়ে দেয়া। তা হলে ভারত সহজে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

ভারত ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু এবং পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে শেষ করায়, ‘জিততে হবে’ চাপটা তাদের মাথায় চাপিয়েছে। পক্ষান্তরে রানরেটে রাস্তা পার পাওয়া নিউজিল্যান্ডের হারাবার কিছুই নেই বিধায়, তারা পুরোপুরি নির্ভার হয়ে মাঠে নামবে। ব্যাট-বলের লড়াইকে হারাতে পারে যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই, সে লড়াইয়ে এগিয়ে আছে নিউজিল্যান্ড। তাই ফাইনালের পথে আজ ভারত ফেভারিট নয়।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন