ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভা–মিছিল: সাবেক মেয়র মনজুর আলমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ফেসবুকে ছবি ছড়ানোর পর অভিযান
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভা ও মশাল মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম, চট্টগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ারসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও ৮০ থেকে ৯০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. জামান বাবু (২৩) ও সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫)। তাঁদের নামও মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার করা হয়।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম (৬২), সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি (৪০) এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (৪০), ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বখতিয়ার সাঈদ ইরান (৪০)।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাঙ্গিরি এলাকায় শতাধিক নেতা–কর্মীর উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ। সভার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, উপজেলার রোসাঙ্গিরি এলাকার মাইজভান্ডার দরবার শরিফ সড়কের পাশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের অর্থায়নে নির্মিত হাজারো মানুষের একসঙ্গে রান্নার উপযোগী ডেকসি ঘরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের শতাধিক নেতা–কর্মী অংশ নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁদের পেছনে টাঙানো ব্যানারে লেখা ছিল, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের তৃণমূল ও কারা নির্যাতিত নেতাদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা’। সভাস্থলে শ্রোতাদের সারিতে সংগঠনের শতাধিক নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মশাল মিছিলের অভিযোগ
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে রোসাঙ্গিরি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট–মাইজভান্ডার পাকা সড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা মশাল হাতে একটি মিছিল বের করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা মশাল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ও সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ারের নির্দেশনায় তাঁরা জড়ো হন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, তাঁরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল জব্দ করা হয়।
মনজুর আলমের রাজনৈতিক পথচলা
মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছিলেন। সে সময় তাঁকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। পরে ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। সম্প্রতি তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন— এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।




