প্রেমের বিয়ের দুই মাসেই ইয়ংওয়ান কর্মকর্তার ‘আত্মহত্যা’ স্বামীর ঘরে

0

চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সের পাঠ চুকিয়ে ইপিজেডের ইয়ংওয়ানে চাকরি করছিলেন সাবরিনা। সহকর্মী ফিরোজুল আলমের সঙ্গে এ সময় তার তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক। পরিবার রাজি না হলেও এ প্রেম গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। এরপর কাটে মাত্র দুই মাস।

গত ৯ এপ্রিল হালিশহরে স্বামী ফিরোজুলের বাসাতেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সাবরিনাকে উদ্ধার করা হয়। সাবরিনার স্বামীই সেদিন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর সাবরিনার বড় বোনকে তিনি জানান, তার বোন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নগরীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় সাবরিনার মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার রাতেই এ ঘটনায় হালিশহর থানায় স্বামী ফিরোজুল, শ্বশুর মনসুর আলম ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় অভিযোগে মামলা দায়ের করে সাবরিনার বাবা এএসএম মাহাবুবুল আলম।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাবরিনার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল স্বামী ফিরোজুল আলম। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৭ এপ্রিল সাবরিনার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে ফিরোজুল। এছাড়াও তাকে নিয়মিত মারধর করতেন তিনি। ফিরোজুলকে তার বাবা, মা সাবরিনাকে নির্যাতনে প্ররোচনা দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সাবরিনা আত্মহত্যা করে।

জানা গেছে, ৯ এপ্রিল ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর মুমূর্ষু সাবরিনাকে লাইফ সাপোর্ট নেওয়ার পরামর্শ দেন চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। কিন্তু ওই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট খালি না থাকায় নগরীর মেহেদিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সাত দিন পর বৃহস্পতিবার সাবরিনার মৃত্যু হয়।

হালিশহর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এই মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে কি কি বিষয় রয়েছে তা তদন্তের পর জানা যাবে।’

এ ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাবরিনাকে যখন মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তখন তার পরনে ছিল বোরকা। আবার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে গেলে মৃত্যু অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু সাবরিনা এরপরও সাত দিন বেঁচে ছিলেন। তাই এটি আত্মহত্যা নাকি তাকে হত্যার চেষ্টা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখার পর সঠিক তথ্য জানা যাবে।’

এফএম/এমএফও

ksrm