প্রশিক্ষণের নামে বিদেশে সরকারি কর্তাদের আনন্দভ্রমণের ধুম!

বিষয় না জেনেই বিদেশ যান অনেক কর্মকর্তা

0

জ্ঞান অর্জন ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে পাঠানো হলেও শেষপর্যন্ত সেগুলো পরিণত হয় নিছক আনন্দ ভ্রমণ ও শপিং ট্যুরে। এভাবে করদাতাদের বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর সাম্প্রতিক এক সভায় দুর্নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় নিয়েও ক্ষোভ ঝেড়েছেন কমিটির সদস্যরা।

দেখা গেছে, অনেক সরকারি কর্মকর্তা এমনকি প্রশিক্ষণের বিষয় কী— সেটা না জেনেই চলে গেছেন বিদেশের কথিত প্রশিক্ষণে। সংসদীয় কমিটি পরামর্শ দিয়েছে, অকর্মা এসব কর্মকর্তাদের পরিবর্তে শুধু তাদেরই বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো উচিত, যারা সরাসরি বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। এতে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানও।

কমিটির সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বিদেশে প্রশিক্ষণের সময় কর্মকর্তারা কী পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করেছেন কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে তার কী রকম প্রতিফলন ঘটেছে— এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনও পরিসংখ্যান নেই।

‘বিদেশে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরে ওই প্রশিক্ষণ থেকে কী জ্ঞান অর্জন করেছেন তা জানিয়ে কর্মকর্তাদের অবশ্যই একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে’— বলেছেন সাবের। তিনি বলেন, অনেক কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে যান। এইসব ক্ষেত্রে, তাদের অর্জিত জ্ঞান প্রকল্পগুলোতে কোনও উপকারেই আসে না।

প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন এবং প্রকল্প খরচের নিরূপণ পদ্ধতিরও সমালোচনা করেছেন এই সাংসদ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সাত হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প মাত্র এক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে।

‘এই ধরনের প্রকল্প কিভাবে অনুমোদন পায়?’—ক্ষোভের সঙ্গে সাবেরের প্রশ্ন। তিনি বলেন, খরচ বাড়ালেই কোনো প্রকল্পের মান উন্নত হয় না। উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির জন্য মন্ত্রণালয়গুলোর নিজস্ব নজরদারি সেল থাকা উচিত।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, নজরদারির অভাবে প্রকল্পের খরচ ও সময় দুটোরই অপচয় হয়। কোনও কোনও প্রকল্পে তার নির্ধারিত সময়সীমার বাইরেও তিন থেকে চার দফা সময় বাড়িয়ে নেওয়া হয়।

সাংসদ রওশন আরা মান্নান বলেন, কিছু কিছু প্রকল্পে দেখা গেছে নির্ধারিত সময়সীমা শেষে আরও অন্তত ছয়বার সময় বাড়ানো হয়েছে।

কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, গত সংসদের সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি জলাবদ্ধতাপ্রবণ জায়গায় কংক্রিটের রাস্তা নির্মাণের পরামর্শ দেয়। অথচ প্রস্তাবটা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, অর্থের ঘাটতির কারণে প্রত্যাশিত গতিতে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় না। অন্যদিকে কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজেদের অযোগ্যতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করে না। ওই মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে চিহ্নিত করা উচিত।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দুর্নীতি বা অনিয়মের বিশ্লেষণ ও তদন্তের কাজ করে, মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে এগিয়ে দেয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে কোনও তথ্য সরবরাহ করার সময় অবশ্যই যেন হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হয়।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন