প্রমাণে গুরুতর অসঙ্গতি, তবু ‘সাজানো’ মামলায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পিবিআইর প্রশ্নবিদ্ধ চার্জশিট

সাক্ষীর কথায় গরমিল, সিসিটিভি ও কললিস্টে উল্টো প্রমাণ

চট্টগ্রামে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিককে চাঁদা দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। কিন্তু তদন্তপ্রতিবেদনে থাকা সাক্ষ্য, কললিস্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজে গুরুতর অসঙ্গতি স্পষ্ট হওয়ায় মামলাটির সত্যতা ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে চাঁদা দাবি সংক্রান্ত কোনো প্রমাণই দেখাতে পারেননি বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযুক্ত সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, প্রয়োজনীয় প্রমাণ তিনি তদন্তকালে জমা দেওয়ার পরও সেগুলো রিপোর্টে সরিয়ে রাখা হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতিত্ব করে একটি সাজানো মামলাকে বৈধতা দিতে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরেও এ বিষয়ে নালিশ গেছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রধান অর্থ যোগানদাতা’ দাবি করে ‘চিনি মোসলেমে’র ফাঁসি চেয়ে চট্টগ্রাম নগরে পোস্টার টাঙ্গানো হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ব্যানারে।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রধান অর্থ যোগানদাতা’ দাবি করে ‘চিনি মোসলেমে’র ফাঁসি চেয়ে চট্টগ্রাম নগরে পোস্টার টাঙ্গানো হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ব্যানারে।

সংবাদ প্রকাশের পরপরই মামলা

চট্টগ্রামেন খাতুনগঞ্জভিত্তিক ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দীনের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করেছিলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম। তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি টিভি চ্যানেলের চট্টগ্রাম করেসপন্ডেন্ট। ওই প্রতিবেদনের মাত্র তিন দিন পর ১৩ মার্চ, ব্যবসায়ী মোসলেম আদালতে ‘চাঁদাবাজি’র মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মাজেদুল ৩ মার্চ তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেছিলেন। তবে মামলার তারিখ, ঘটনার বর্ণনা ও প্রমাণপত্রের মধ্যে সুস্পষ্ট অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। যেমন ২৬ মার্চ বাদীর বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিক মাজেদুল ভিডিও ধারণ করেছেন— এমন অভিযোগ আনা হলেও মামলা দায়ের হয়েছিল তারও ১৩ দিন আগে!

পিবিআই (চট্টগ্রাম মেট্রো) ইন্সপেক্টর সত্যজিৎ বড়ুয়া (বিপি ৬৬৯৪১১৯৭১৭) চার্জশিট তৈরি করে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করেন। ১৩ মার্চ দায়ের করা মামলায় ১১ সেপ্টেম্বর আদালত মাজেদুলসহ দুই বিবাদির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মাজেদুল বলেন, ‘ব্যবসায়ী মোসলেমের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা দেওয়া পড়েছিল দুদকের কাছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করতে গেলে তিনি (মোসলেম) আমার ওপর ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবিচল ছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মার্চ টিভিতে সংবাদটি প্রচার হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পরই ১৩ মার্চ আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে মিথ্যা মামলা করেন মোসলেম উদ্দীন।’

সাক্ষীদের জবানবন্দিতে একটানা অসঙ্গতি

তদন্ত কর্মকর্তা সত্যজিৎ বড়ুয়ার প্রতিবেদনে ১০ জন সাক্ষীর ১৬১ ধারার নেওয়া জবানবন্দি উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রত্যেক সাক্ষীর বক্তব্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি আছে। চাঁদা দাবির পরিমাণ সম্পর্কে বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে — কেউ বলেছেন ৫০ লাখ টাকা, কেউ বলেছেন ১ কোটি টাকা, কেউ বলেছেন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, আবার একজন বলেছেন মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বেশিরভাগ সাক্ষীই স্বীকার করেছেন তারা সাংবাদিক মাজেদুলের সম্পৃক্ততা সরাসরি দেখেননি, বরং ‘পরে শুনেছেন’। ২ নম্বর সাক্ষী হুমায়ুন কবির ভুইয়া মামলার আর্জিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার দাবি করলেও জবানবন্দিতে তিনি ‘পরে শুনেছি’ লেখেন। ৫ নম্বর সাক্ষী আমিনুর রহমান মিন্টুও বলেছেন ‘পরে শুনেছি’।

৮ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দিতে চাঁদা দাবির উল্লেখ নেই। আরেক সাক্ষী ফরিদ আলম চৌধুরী বলেছেন তিনি মাজেদুলকে দেখেননি, শুধু বাদীর কাছ থেকে শুনেছেন। একজন সাক্ষী জবানবন্দিতে বলেন, তিনি বাদীকে ১৯৭২ সাল থেকে চেনেন, অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বাদীর জন্মই ১৯৬২ সালে! এ ধরনের বিবরণগত ভুল স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে। চাঁদা দাবির অর্থের পরিমাণের অসঙ্গতি ছাড়াও অনেক সাক্ষী আসামি মাজেদুল সম্পর্কে কোনো মন্তব্যই করেননি। দুজন সাক্ষী চাঁদা দাবি করা হয়েছে উল্লেখ করলেও কিভাবে ও কোথায় দাবি করেছে সেটা বলেননি। আবার মাজেদুল নিজে চাঁদা দাবি করেছেন— এমন কথা কোনো সাক্ষীই জবানবন্দিতে বলেননি। আরেক সাক্ষীর জবানবন্দিতে মামলার আর্জিতে উল্লেখিত ঘটনার তারিখের সঙ্গে কোনো মিলই পাওয়া যায়নি।

‘সহযোগী’ বানানোর চেষ্টা, প্রমাণে ফাঁক

তদন্ত প্রতিবেদনে বারবার সাংবাদিক মাজেদুলকে ১ নম্বর আসামি ইফতেখারুল করিম চৌধুরীর ‘সহযোগী’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সত্যজিৎ। অথচ সাক্ষীদের জবানবন্দি কিংবা সিসিটিভি ফুটেজের কোথাও মূল আসামির সঙ্গে মাজেদুলের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ নেই। মাজেদুল ও ইফতেখারুলের মধ্যে কোনো পরিচয় নেই—তবু তাদের একসঙ্গে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইফতেখারুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে খুলশী থানায় ইয়াবা ব্যবসার একটি মামলা ও চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা রয়েছে। তিনি নিজেকে ‘চ্যানেল টোয়েন্টিফোর ডট টিভি’ একটি ইউটিউব চ্যানেলের সাংবাদিক হিসেবে দাবি করেন। ২০২২ সালে তিনি এক মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

প্রমাণ নেই সিসিটিভি ফুটেজেও

মামলায় বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সাংবাদিক মাজেদুল বাদী মোসলেমের খাতুনগঞ্জ অফিস ও সাতকানিয়ার বাড়িতে গিয়েছিলেন। এর প্রমাণ হিসেবে বাদী সিসিটিভি ফুটেজ জমা দেন। কিন্তু ফুটেজে দেখা যায়, ‘চ্যানেল টোয়েন্টিফোর ডট টিভি’ লেখা মাইক্রোফোন হাতে কয়েকজন যুবক বাড়ির সামনে ছিলেন, সেখানে মাজেদুল ইসলাম ছিলেন না। খাতুনগঞ্জ অফিসের ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি। তবুও তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ফুটেজে থাকা অন্য একজনকে ‘মাজেদুল’ বানিয়ে দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

কললিস্টে উল্টো প্রমাণ, বাদীর কণ্ঠে হুমকি

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৩ মার্চ মাজেদুল তার গ্রামীণফোন নম্বর থেকে বাদী মোসলেমকে কল করে হুমকি ও চাঁদা দাবি করেছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে আসা কললিস্ট ও ৯০ সেকেন্ডের এক কলরেকর্ডে দেখা যায়, ওই দিন বা তার আগে-পরে কোনো দিনই মাজেদুল বাদীকে ফোন করেননি। বরং মোসলেমই সেদিন নিজে মাজেদুলকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দিয়েছেন। মাজেদুল অভিযোগ করেন, তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে কললিস্ট ও সেই হুমকির রেকর্ড জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু তদন্তপ্রতিবেদনে এই প্রমাণগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কললিস্টে উল্টো তথ্য মিললেও তদন্ত প্রতিবেদনে তা প্রতিফলিত হয়নি, যা মামলার দিকনির্দেশনা পাল্টে দিতে পারত বলে সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে মোসলেম উদ্দীন অবশ্য ফোনকলের কথা অস্বীকার করে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘ওকে আমি কেন হুমকি দেবো?’

কী কথা হয়েছিল ৯০ সেকেন্ডের কলরেকর্ডে

মোসলেম: আপনি কে বলছেন?
মাজেদুল: আপনিই তো কল করছেন ভাই।
মোসলেম: আমি কল করছি, আপনি কি সাংবাদিক?
মাজেদুল: জ্বি। আপনি কে বলছেন?
মোসলেম: আমাকে কোয়ারি করতেছেন কি জন্য?
মাজেদুল: আপনার পরিচয়টা বলবেন তো..আমি বুঝতে পারছি না।
মোসলেম: আমার নাম মোসলেম উদ্দিন।
মাজেদুল: ও আচ্ছা মোসলেম সাহেব। জ্বি বলেন ভাই বলেন।
মোসলেম: আপনি আমার গ্রামের বাড়ি গেছেন, ওখানে আমার জায়গায় গেছেন … কি কারণটা কি? তোমার কি..সমস্যাটা কি?
মাজেদুল: না, সমস্যা না, আসলে আমাদের কাছে তথ্য আসছিল যে…
মোসলেম: তোমার কাছে কিয়ের তথ্য আছে আমাকে দেখাও.. হন সুদানির পোয়া তথ্য দিয়ে হিতের মারে চুদি। সুদানির পোয়াইন এডে মশকারি পাইয়ুস হানকির পোয়াইন। তোর সাংবাদিকের মারে চোদ।
মাজেদুল: আপনি কেন শুধু উত্তেজিত হচ্ছেন?
মোসলেম: তো রাগ করবো না সুদানির পোয়া ?…..মাগির পোয়া।
মাজেদুল: শুনেন সাহেব…
মোসলেম: ইতের মারে চুদি, হোন সুদানির পোয়া হইয়্যে? হিতের মারে চুদি, তুই এডে আয়..আঁর ঠিকানা এডে আছে। খানকির পোয়া। তোর সাংবাদিকের মারে চুদি।
মাজেদুল: শুনেন মোসলেম সাহেব, আপনি উত্তেজিত হবেন না।
মোসলেম: তোর মারে চুদি, তোর মারে চুদি।
মাজেদুল: আপনি বোঝার চেষ্টা করুন একটু…
মোসলেম: আরে তোর বোঝনের মারে চুদি। তোর জাতের মারে চুদি, তোর সাংবাদিকের মারে চুদি, তোর চৌদ্দগোষ্ঠরি মারেও চুদি।
মাজেদুল: আচ্ছা আমি কি আপনার সাথে খারাপ আচরণ করেছি?

‘যে সাপ কামড় দিয়েছে তাকে দিয়েই বিষ নামাতে হবে’

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করলেও চাঁদাবাজির অভিযোগের মূল উপাদান অর্থাৎ দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ নিয়ে সাক্ষীদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি সেটা আমলে নেননি। এছাড়া চাঁদাবাজির সরাসরি কোন প্রমাণও পাননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। এমনকি সুনির্দিষ্টভাবে আর্জিতে থাকা তারিখগুলোও তুলে ধরতে পারেননি। এমনকি কোন্ আসামির ভূমিকা কী ছিল তাও স্পষ্ট হয়নি প্রতিবেদনে।

মাজেদুল অভিযোগ করেন, তদন্ত চলাকালে পিবিআই ইন্সপেক্টর সত্যজিৎ বড়ুয়া তাকে নানাভাবে চাপ দেন এবং বাদীর সঙ্গে আপস করার প্রস্তাব দেন। তার বিরুদ্ধে গুরুতর পক্ষপাতিত্ব ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ এনে সাংবাদিক মাজেদুল বলেন, ‘তদন্ত চলাকালে সত্যজিৎ বড়ুয়া আমাকে নানাভাবে ভয় দেখাতে থাকেন। মোসলেমের সঙ্গে আপোস করতে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে বলেন, যে সাপ কামড় দিয়েছে তাকে দিয়েই বিষ নামাতে হবে মোসলেম সাহেব অনেক ভালো মানুষ। আমি সিএমপি থাকাকালীন অনেক আগে থেকে তাকে চিনি। তিনি ওপরের মহল ম্যানেজ করেছেন, তিনি সামর্থ্যবান, কিন্তু আপনি তো সেটা পারবেন না। তাই আপনার উচিত সোর্সের নাম প্রকাশ করে তার সাথে মিলে যাওয়া। এ কাজে আপনাকে আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা) সাহায্য করবে।’

ব্যবসায়ী মোসলেমের প্রভাবশালী যোগাযোগ

বাদী মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দীন খাতুনগঞ্জে ‘ব্রোকার’ হিসেবে কাজ শুরু করে পরে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে চিনির ব্যবসায় জড়ান। তিনি নুরুল ইসলাম অ্যান্ড ব্রাদার্স ও এমএস ট্রেডার্সের মালিক। খাতুনগঞ্জে তাকে ‘চিনি মোসলেম’ হিসেবে সবাই চেনে। সাতকানিয়ার ইছামতি আলীনগর এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে তার দ্রুত উত্থান হয়েছে। মোসলেমের সঙ্গে সাইফুল আলম মাসুদ ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীসহ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে তারা জানান। এ সম্পর্কিত কিছু ছবিও চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে মোসলেম উদ্দীন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে কার সম্পর্ক থাকবে না থাকবে সেটা আমার বিষয়। কোথায় আমার সম্পদ কী আছে না আছে সেটা তদন্ত করার সে কে?’

সিসিটিভি ফুটেজের ছবিতে সাংবাদিক মাজেদুল ছিল কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, ‘মাজেদুলও ছিল।’ কিন্তু সেখানে তো মাজেদুল ছিল না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যেহেতু মামলা হয়েছে, বাকিটা আদালতই দেখবে।’

গত বছরের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রধান অর্থ যোগানদাতা’ দাবি করে ‘চিনি মোসলেমে’র ফাঁসি চেয়ে চট্টগ্রাম নগরে পোস্টার টাঙ্গানো হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ব্যানারে।

চার্জশিটের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

পিবিআই চার্জশিট দাখিলের পর আদালত ১১ সেপ্টেম্বর মাজেদুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মাজেদুল পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে পিবিআই ইন্সপেক্টর সত্যজিৎ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন, সেখানে তিনি তদন্তের পক্ষপাতিত্ব ও পেশাগত অসদাচরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে পিবিআই (চট্টগ্রাম মেট্রো) ইন্সপেক্টর সত্যজিৎ বড়ুয়াকে ফোন করার পরপরই তিনি সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

সিপি

ksrm