ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শান্তি, সম্প্রীতি ও অহিংসার বার্তায় উদযাপিত হয়েছে মহাকারুণিক গৌতম বুদ্ধের জীবনের ত্রি-স্মৃতিবিজড়িত শুভ বুদ্ধ জয়ন্তী।

রবিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় প্যারিসের জুরিস পার্কে বাংলাদেশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ফ্রান্স ও বাংলাদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

বুদ্ধ পূর্ণিমা জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির শুরু হয় পবিত্র ত্রিপিটকের মঙ্গল বাণী পাঠের মাধ্যমে। পরে অনুষ্ঠিত হয় বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডচারণ, দেশনা, জগতের সকল প্রাণী ও বিশ্বশান্তি কামনায় পুণ্যদান, পূজ্য ভান্তেদের ছোয়াং গ্রহণ, জ্ঞাতিভোজ এবং সম্মিলিত ধ্যান অনুশীলন।
দিনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন ছিল বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শান্তি শোভাযাত্রা। প্রথমবারের মতো প্যারিসের জুরিস পার্ক থেকে গার ডু লিস্ট পর্যন্ত এ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের, ফ্রান্স বুদ্ধচাক্কা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত আনন্দ নায়ক থের, ভদন্ত মেত্তাবংশ মহাথের, ভদন্ত জ্যোতিসার থের, ভদন্ত বিজয়ানন্দ থের, ভদন্ত শাক্যবংশ থের, ভদন্ত কল্যাণরত্ন থের, ভদন্ত চন্দ্রজ্যোতি থের, ভদন্ত আনন্দ ভিক্ষু, ভদন্ত প্রিয়রক্ষিত ভিক্ষু ও ভদন্ত অপ্রমাদ ভিক্ষুসহ বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষরা।
শোভাযাত্রায় ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী প্রবাসী অংশ নেন। এতে শান্তি, সম্প্রীতি ও অহিংসার বার্তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকেরা জানান, গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ বা মহাসত্যজ্ঞান এবং মহাপরিনির্বাণ এই তিনটি স্মরণীয় ঘটনার কারণে দিনটি বিশ্ব বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পুণ্যময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী ও শান্তির বাণী আজও বিশ্ব মানবতার জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।
আয়োজকেরা আরও জানান, বাংলাদেশের বাইরে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বাংলা ভাষাভাষী বৌদ্ধদের বসবাস ফ্রান্সে। দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ১০ হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বসবাস করছেন।




