কক্সবাজারে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা মামলায় ২৮ বছর পর তিন ব্যাংক কর্মকর্তাকে সাজা দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে একজনকে ছয় বছর ও অপর দুইজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তারা হলেন—পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (ব্যবস্থাপক) সিরাজুল ইসলাম, আবু দাউদ চৌধুরী রিপন ও মো. শাহ আলম।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসেন জানান, সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আসামি ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সিরাজুল ইসলামকে ৫ বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ১ বছরসহ ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ৩৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অপর আসামি আবু দাউদ চৌধুরী (রিপন) ও মো. শাহ আলমকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একই ধরনের আরেকটি মামলাতে আদালত তিন আসামিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রত্যেককে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৪০ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে তিন আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের কক্সবাজার শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রাহকের হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ জমা না থাকা সত্ত্বেও নিয়মভঙ্গ করে ওভারড্রাফট সুবিধা দেন। এর মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে ১০টি চেকের বিপরীতে প্রায় ৩৪ লাখ ১৪ হাজার ৪২২ টাকা এবং পরে ১৯৯৯ সালে আরও ৪টি চেকের মাধ্যমে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। আসামিরা এসব অর্থ অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
মামলার বিচার চলাকালে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতির আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করেন।
টিএ/ডিজে




