পুলিশ হেফাজতে সাবেক দুদক কর্মকর্তার মৃত্যুতে সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ

চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপ-পরিচালক ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে তারা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির সভাপতি মো. মশিউর রহমান ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে একথা জানানো হয়।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে বাসা থেকে সাদা পোশাকে তিন জন পুলিশ সদস্য ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে আটক করে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় নিয়ে যায়। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানা থেকে অসুস্থ অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতাল পার্কভিউতে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। শহীদুল্লাহর পরিবারের দাবি, পুলিশে হেফাজতে নিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, দুদকের ওই সাবেক কর্মকর্তাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে আনা হলে তিনি থানায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার পরিবারের লোকজনকে ডেকে এনে তাৎক্ষণিক পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ দুদক থেকে ২০০৭ সালের ১২ জুলাই অবসরে যাওয়ার আগে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি চান্দগাঁও থানার পাশের এক কিলোমিটার এলাকায় বসবাস করতেন।

এদিকে দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুদকের সাবেক উপ-পরিচালক ও দুদক পরিবারের সদস্য ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আটকের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধও সঙ্গে নিতে দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমের খবর ও পরিবারের দাবি যদি সত্য হয়, তবে সেটি হবে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধ।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিআর মামলা নং ৭৩৩/২০২৩ অনুযায়ী ওয়ারেন্ট ইস্যু করে মামলার পরবর্তী তারিখ ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাকে থানায় নিয়ে যায়। মামলার পরবর্তী তারিখ আরও ২৭ দিন পরে থাকার পরও ৬৪ বছরের একজন ব্যক্তিকে রাতের বেলায় গ্রেফতার করা, পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া, হৃদরোগের রোগী হিসেবে ইনহেলার ও ওষুধ সঙ্গে নিতে না দেওয়াসহ নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার মৃত্যু অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারী, গ্রেফতারকারী, থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর দায় কোনও বিভাগের নয় বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার দুদক আইনের তফসিলভুক্ত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ওই ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ প্রত্যাশা করে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!