পুলিশের সাহায্য চেয়ে উল্টো নাজেহাল পটিয়ার ব্যবসায়ী (ভিডিওসহ)

0

পটিয়ার এক মোটরসাইকেল চোরকে আটক ও মামলার বিষয়ে ৮ ঘন্টায়ও কোন তথ্য জানাতে পারেননি পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন। এ নিয়ে থানার ওসির অস্বাভাবিক লুকোচুরি নানা মহলে জন্ম দিয়েছে বিস্ময়ের। ভুক্তভোগী বলছেন, পুলিশকে চোর ধরিয়ে দিয়ে উল্টো তিনিই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

চট্টগ্রামের পটিয়ার মনসারটেক এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১.২০ মিনিটে রহিম (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পটিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিন্নুরাইন স্টিল নামের একটি ওয়ার্কশপের গেইটের সামনে ৩ জন চোর মিলে মোটরসাইকেলটি তালা ভেঙে চুরি করার চেষ্টা করে। ঠিক এমন সময়ে সেই ওয়ার্কশপের মালিক তার অফিস কক্ষে সিসিটিভি ফুটেজে এই ঘটনা দেখতে পেয়ে সাথে সাথে মোটরসাইকেলের মালিক সোহেলকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে সকলে মিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ চোরকেই ধরার চেষ্টা করে। এর মধ্যে দুজন পালিয়ে গেলেও রহিম নামের এক চোরকে ধরতে সক্ষম হয়। এরপর স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

প্রতক্ষ্যদর্শী মোরশেদুল হক আকবরী বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় আমার ওয়ার্কসপের (জিননুরাইন স্টিল) সামনে থেকে সগুনা ফুড এণ্ড ফিস বাংলাদেশ প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত সালাউদ্দিন নামক এক কর্মকর্তার মোটরসাইকেল চুরি করার চেষ্টা করে ৩ লোক। সিসিটিভিতে দেখার সাথে সাথে সোহেলকে আমি এ বিষয়ে অবগত করি এবং আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাই। পরবর্তীতে আমরা স্থানীয়রা মিলে একজন চোরকে ধরতে সক্ষম হয়। এরপর এলাকার লোকেরা গণপিটুনি দেওয়া শুরু করে। অতিরিক্ত পিটুনিতে মারা যাবে— এই চিন্তা করে আমি পুলিশের হাতে তাকে ধরিয়ে দেই।

তিনি আরও বলেন, চোর রহিম তার পরিচয় একেক সময় একেকভাবে বলছে। কখনও চকরিয়া, কখনও রামু। তবে তার পকেট থেকে পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা আছে তার ঠিকানা রামু।

মোটরসাইকেলের মালিক মো. সালাউদ্দীন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি গাড়ি পার্কিং করে যাওয়ার আনুমানিক ২০-২৫ মিনিট পর মোরশেদুল হক আকবরী আমাকে কল দিয়ে বলেন আপনার গাড়ি হয়তো কেউ চুরি করার চেষ্টা করছে। এরপর তিনি এবং স্থানীয়রা জড়োসড়ো হয়ে চোরদের ধরার চেষ্টা করে। এরপর একজনকে ধরে পুলিশকে খবর দিলে সকাল সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে চোরকে ধরে। ঘটনার ১ ঘণ্টা পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরবর্তীতে চোরকে নিয়ে বাইকসহ আমিও থানায় যাই। থানায় গিয়ে আমি মামলা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনও থানায়। থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন আমাকে বলছেন আমার মোটরসাইকেল নাকি কোর্ট থেকেই আনতে হবে। থানা থেকে আমাকে মোটরসাইকেল তারা দেবেন না। সাহায্যের জন্য পুলিশের আশ্রয় নিলাম, কিন্তু পুলিশই উল্টো বিপদে ফেলছে। সমস্ত প্রমাণ রয়েছে সিসি ক্যামেরায়। আসামিও ধরা পড়েছে। সে স্বীকারও করেছে। তাদের দলে আরও কয়েকজন আছে। তারপরও কেন কোর্ট থেকে আনতে হবে? এমন হলে প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখবো কী করে?’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, এ ঘটনায় সালাউদ্দিন বাদি হয়ে মামলা করেছে। কিন্তু মোটরসাইকেল এখনও থানায় আছে। তবে মোটরসাইকেলটি কোর্ট থেকেই আনতে হবে।

এদিকে ঘটনা ঘটার দুই ঘন্টা পর অর্থাৎ দুপুর পৌনে একটায় পটিয়া থানার ওসি বোরহানউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তো কিছু জানি না। ঠিক আছে লোক পাঠাচ্ছি। তারপর বলা যাবে।’

অথচ দুপুর ১২টায় এসআই সাখাওয়াত চোরকে ধরে থানায় নিয়ে যান। এরপর বিকেল ৩.৩০ মিনিটে ওসি বোরহানউদ্দিনের মুঠোফোনে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘চোর ধরা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন কিছু বলা যাবে না। আমরা তাকে নিয়ে অভিযান চালাবো। আপনাদের কাল জানাবো সম্পূর্ণ বিষয়টি। এখন পারবো না।’

এনজে/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন