ভিডিও/ পিটিয়ে নদীতে ছুঁড়ে ফেলা হল দুই প্রবাসীসহ চার যাত্রীকে

সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে ইজারাদারের কাণ্ড

0

দুই প্রবাসীসহ চার যাত্রীকে পিটিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে। দুই প্রবাসীসহ এই চার যাত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছে ঘাট ইজারাদারের লোকজন ও ‘লালবোটে’র সহকারীরা মিলে। সার্ভিস বোট থেকে কূলে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত ‘লালবোটে’ অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে উঠতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের ওপর এই হামলা হয়। এদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের মালিকানাধীন কুমিরা গুপ্তছড়া ফেরী ঘাটের গুপ্তছড়া অংশে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হওয়া চার ব্যক্তির নাম মানিক, সোহেল, শিবলু ও শিহাদ। সকলেই মুছাপুরের আলীমিয়ার বাজার এলাকার মান্দিরগো বাড়ির বাসিন্দা। এদিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা ঘটনায় আহত সোহেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ শুক্রবার (২৮ জুন) তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে।

জানা গেছে, সোহেল ও শিবলু দুজনই প্রবাস থেকে বাংলাদেশে এসেছেন মাত্র কিছুদিন আগে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় তাদের ছোট ভাই শিহাদ, পিতা মানিক, মা, সোহেলের স্ত্রী-সন্তান ও বোন তাদের সঙ্গে ছিলেন।

সন্দ্বীপের কূলে যাওয়ার পর সার্ভিস বোট থেকে যাত্রীদের কূলে নামানোর জন্য একটি ‘লাল বোট’ আসে। কিন্তু এতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠায় ওই বোটে উঠতে অস্বীকৃতি জানান সোহেল। ওই বোটের সহকারীদের তিনি জানান, তার সঙ্গে ছোট বাচ্চা আছে, মা-বোন-স্ত্রী আছে, তাই তিনি পরবর্তী বোটে যাবেন। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সহকারীদের একজন সোহেলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। গালির প্রতিবাদ করার পর বোটের সহকারীরা একজোট হয়ে প্রথমে সোহেলকে ধাক্কা দিয়ে সার্ভিসবোট থেকে লাল বোটে ফেলে দেয়। পরে সেখানে তাকে বেধড়ক পেটায়। সোহেলকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার পিতা মানিক ও ছোট দুই ভাই শিবলু ও শিহাদকেও মারধর করে ঘাট ইজারাদারের লোকজন। এসময় সার্ভিস বোটে থাকা যাত্রীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ইজারাদারের লোকজন লালবোটটি সার্ভিস বোট থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। সেখানে ওই অবস্থায় আরেক দফা মারধর করা হয় তাদের। পরে কূলের কাছাকাছি এলে ঘাট ইজারাদারের এক লোক সোহেলকে লাথি দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরাফাত রহমান সাব্বির জানিয়েছেন, ‘হঠাৎ করেই দেখি ঘাটের লোকজন একজনকে লালবোটে নিয়ে গিয়ে মারছে। এরপর ওই লোককে বাঁচাতে সার্ভিস বোট থেকে ২-৩ জন যাত্রী লাফিয়ে লাল বোটে যায়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে লালবোটটা সার্ভিস বোটের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিছুদূর নিয়ে গিয়ে লাল বোটটি থামিয়ে নদীর মাঝখানে তাদের আবার পেটানো হয়। পরে কূলে নিয়ে লাথি মেরে বোট থেকে ফেলে দেয়। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে ওই মানুষটা একজন প্রবাসী। তার স্ত্রী, ছোট একটা মেয়ে আর মা-বোন ওই সময় সার্ভিস বোটে ছিল।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শরিফুল আলম বলেন, ‘ঘাটশ্রমিকদের হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে চারজন এসেছিল থানায়। তারা অভিযোগ না করে চলে যেতে চাইলো। বললো, তারা এটা আলোচনা করে সমাধান করবে। কিন্তু আমরা তাদের বুঝিয়ে বলেছি একটা লিখিত অভিযোগ করার জন্য। তারা ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। আমরা ঘটনাটি দেখছি।’

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কূলে ভিড়তে গিয়ে একটি লালবোট উল্টে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল এই ঘাটে। এই ঘটনার জন্য লালবোটের চালক ও সহকারীদের অদক্ষতা ও অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করা হয়েছিল।

ksrm