পিএইচপির এমডি ইকবালকে আদালতে হাজির হওয়ার হুকুম ফৌজদারি মামলায়

গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে মিলেছে অভিযোগের সত্যতা

হুমকি ও অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় পিএইচপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইকবাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সমন (আদালতে হাজির হওয়ার হুকুম) জারি করেছেন চট্টগ্রামের আদালত।

চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে স্বয়ং অথবা উকিলের মাধ্যমে আদালতের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সমনটি পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর ৪০/১ জাকির হোসেন রোডে ইকবালের ঠিকানায়।

ইকবাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৫০০/৫০৬ ধারার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে রুয়ান্ডার অনারারি কনসাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাবা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ২০২০ সালে একুশে পদক পান ‘সমাজসেবায় অবদানের’ স্বীকৃতি হিসেবে।

হুমকি ও অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গত বছরের ১০ মার্চ চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইকবাল হোসেনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক ও উপদেষ্টা সম্পাদক আয়ান শর্মা।

পরে আদালত শুনানি শেষে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগকে।

Yakub Group

গত বছরের ১০ নভেম্বর এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে আদালতে ১০৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে মামলার গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ। প্রতিবেদন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

যা ঘটেছিল

গত বছরের ২ মার্চ পাহাড়ের টিলা কেটে বাঁধ দিয়ে পাহাড়ি প্রাকৃতিক ছড়া বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পিএইচপি ফ্যামিলির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পিএইচপি ফ্লোট গ্লাসের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এরা হলেন—পিএইচপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, কারখানার আমবাগান প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. আলফাতুন ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান অভিজিৎ চক্রবর্তী।

এ নিয়ে গত বছরের ৪ মার্চ চট্টগ্রাম প্রতিদিনে ‘চট্টগ্রামে পাহাড়ের টিলা কেটে সর্বনাশা বাঁধ, ইকবালসহ পিএইচপির তিনজন মামলার জালে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এই মামলার খবর প্রকাশ করার পর পিএইচপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইকবাল হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্মাকে টানা দুই দিন ফোন করে অশালীন ভাষায় হুমকি দেন। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক আক্রমণ ছাড়াও বহুবার রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের নাম ব্যবহার করে সরাসরি তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া তিনি একই ধরনের হুমকি দিয়ে অন্তত ৭৯টি এসএমএস বা ক্ষুদে বার্তা পাঠান তার মোবাইল নম্বর থেকে।

অভিযোগে দেখা যায়, গত বছরের ৮ মার্চ দিবাগত রাত ২টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিজের মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করেন পিএইচপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্মার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করে অশ্রাব্য ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় হুমকি দিয়ে যান ক্রমাগত। শুরুতেই তিনি ক্ষিপ্ত ভাষায় জানতে চান, চট্টগ্রাম প্রতিদিনে কেন নিউজটা প্রকাশ করা হয়েছে?

এর পরপরই পিএইচপি গ্রুপের এমডি ইকবাল হোসেন অকথ্য ভাষায় গালাগালিসহ হুমকি দিতে থাকেন। এ সময় তিনি একাধিকবার গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন— ‘ছাগলের বাচ্চা তিন মিনিট লাগবে না তােরে তুলে নিয়ে আসতে।’

চট্টগ্রাম প্রতিদিন প্রকাশকের ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে ইকবাল হোসেন সাম্প্রদায়িক বিষোদগারও করেন এই বলে— ‘আমি মুসলমাইন্না, তুই এদেশে থাকতে পারবি না, কচু কাটা করবো তােমাকে শুয়ােরের বাচ্চা।’ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘যে অ্যামবেসিই ধরো, তুমি মনে হয় আমার কানেকশন জান না…।’

এর একপর্যায়ে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা মামলা দায়ের করে জেল খাটানো ছাড়াও আর্থিকভাবে হয়রানি করারও হুমকি দেন। মোবাইল ফোনে রাতভর হুমকি-ধমকি-গালিগালাজের পর চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্মা তার মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে পিএইচপির এমডি ইকবাল হোসেন এরপর ক্রমাগত এসএমএস বা ক্ষুদে বার্তা পাঠাতে থাকেন। পরবর্তী কয়েক ঘন্টায় তিনি মোট ৭৯টি এসএমএস পাঠান— যার সবকটিতেই ছিল মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও প্রাণে মারার হুমকি।

এ সময় তিনি পিএইচপি গ্রুপের মালিকানা ও পরিচালনায় থাকা এটিএন বাংলা ও আমাদের সময়সহ ৪-৫টি টিভি ও পত্রিকায় চট্টগ্রাম প্রতিদিন প্রকাশকের নামে মিথ্যা খবর প্রকাশেরও হুমকি দেন।

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার এ ঘটনা বিশ্ব গণমাধ্যম ছাড়াও দেশ-বিদেশে তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm