চট্টগ্রাম পাহাড়তলী কলেজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার বলেন, কলেজের মাঠ ব্যবহারের অনুমতি, পতিত জমিতে কৃষিকাজ, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপক পদবি দেওয়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনে প্রভাবিত করা , গেট নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনে মনবিক বিবেচনায় কলেজের মাঠ স্বল্প খরচে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয় এবং রশিদের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ কলেজ ফান্ডে জমা হয়। একইভাবে কলেজের পতিত জমি কৃষিকাজের জন্য চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এ থেকে প্রাপ্ত অর্থও কলেজ ফান্ডে জমা হয়।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ইতোমধ্যে মাউশি ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তদন্তাধীন রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা উচিত। তিনি দাবি করেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকা, শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপক পদবি দেওয়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন, গেট নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
সম্প্রতি অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমান চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে হামলার পর তাকে ও তার দুই সহকর্মীকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক—এটাই তিনি চান। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে যাচাইয়ের আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এসময় আরও উপস্তিত ছিলোন গভর্নিং বডির সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক মো. হানিফ, সহকারী অধ্যাপক মমতাজুল হক, সহকারী অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম, সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তফা রাসেল, সহকারী অধ্যাপক খোকন কুমার দত্ত, প্রভাষক সাইফুল হক, প্রভাষক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।




