পাঁচলাইশের মিরর হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ, পিপলসে নোংরা ওটি

সার্জিস্কোপসহ চট্টগ্রামের ৫ প্রতিষ্ঠানে অভিযান

গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শুরু হয় নানা জটিলতা। এরপর সিজার করা জায়গায় চলে আসে সংক্রমণ। সেলাইয়ের জায়গায় শুরু হয় পচন—এমন বেশ কয়েকটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসে।

পাঁচলাইশের মিরর হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ, পিপলসে নোংরা ওটি 1

অভিযোগ হাতে পেয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী অভিযানে নামেন ত্রুটিপূর্ণ হাসপাতালগুলো বিরুদ্ধে। অভিযানে চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে হানা দিয়ে অপারেশন থিয়েটারের নানা অনিয়ম পান তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) নগরীর পাঁচলাইশের চট্টগ্রাম মেডিকেলের পূর্ব গেটের মিরর হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ ইউনিট-১ ও চকবাজারের পিপলস হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। এছাড়া দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিকেলের পূর্ব গেট এলাকার ফ্যামিলি হেলথ কেয়ার ও ঈগল আই ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও অভিযান চালান সিভিল সার্জন।

এরমধ্যে মিরর হাসপাতালে গিয়ে কোনো জরুরি বিভাগ দেখা যায়নি। এজন্য চক্ষু বিভাগ ছাড়া বাকি সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ছিল নোংরা। এছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন পাওয়া গেছে হাসপাতালে।

Yakub Group

জানা গেছে, এই হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী আবু সাঈদ সেলিম। তিনি আবার পাঁচলাইশ আবাসিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

এছাড়া পিপলস হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও (ওটি) নোংরা পরিবেশ পাওয়া গেছে। রোগীর সেবার জন্য ওটি টেবিল মানসম্মত ছিল না। রোগীর জন্য রাখা দুই ইনজেকশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ দেখা গেছে।

অপারেশন থিয়েটারের মত গুরুত্বপূ্র্ণ জায়গায় ছিল ডিপ্লোমাধারী নার্সের স্বল্পতা। নেই মূল্য তালিকাও। হাসপাতালটির ওটি কার্যক্রম ১০দিন বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই রকম অবস্থা দেখা গেছে ঈগলস আই ডায়াগনস্টিক ও মিরর হাসপাতালে, ফ্যামেলি হেলথ কেয়ারেও। এছাড়া মিরর হাসপাতালে নেই কোনো জরুরি বিভাগও।

এদিকে বন্ধ করতে বললেও রাত পর্যন্ত মিরর হাসপাতালের কার্যক্রম চলছিল। রোগী পরিচয়ে হাসপাতালের নম্বরে ফোনে যোগাযোগ করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ স্টাফ হাসপাতালের দোতালায় এসে যোগাযোগ করতে বলেন।

অভিযান প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। যেখানে প্রয়োজনীয় সবকিছুর উপস্থিতি দেখে রোগীকে অপারেশন টেবিলে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আমি যেসব অব্যবস্থাপনা দেখলাম তাতে চোখ ভড়কে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে কিছু অভিযোগ ছিল সিজারিয়ান নারীদের। তাদের সিজার করা জায়গায় সংক্রমণ হয়। এটি কেন হচ্ছে, এটি জানতেই মূলত অভিযানে অংশ নেওয়া।’

প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ঘাটতি পূরণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী।

আইএমই/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm