পরীক্ষা না দিয়েই দুই শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫!

সাধারণত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে লিখলে ভালো ফল করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে পাস করা অসম্ভব। তবে এমন অসম্ভব কাজই সম্ভব হয়েছে বাঁশখালীর চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে। এই দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষা ছিল না মনে করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। পরে তারা তাড়াহুড়ো করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছালে দেখতে পান পরীক্ষা শেষ করে পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু গত ১২ জুন প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এই দুই শিক্ষার্থী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৩ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে পাস করেছে ৭২ জন। একজন শিক্ষার্থী ফেল করেছে রসায়ন বিষয়ে। অর্থাৎ যে দুই শিক্ষার্থী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তারাও পাস করেছে। দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে কিভাবে পাস করলো সেটা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরীক্ষার দিন বিকেলে চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রেজাউল করিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে লিখেন, বুধবার (২৯ মে) এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র বাঁশখালী-০১ (২০২) বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইজন বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আইসিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। প্রাথমিকভা অনুসন্ধানে জানতে পারি, তারা বেখেয়াল ছিল এবং যখন জানে তখন বেলা ৯টা ৪০ মিনিট। তাড়াহুড়ো করে বের হয়, চাম্বল বাজার, টাইম বাজারে তাঁদের ২০ মিনিটের কাছাকাছি যানজটে কেটে যায়। এবং হলে পৌঁছে গিয়ে দেখে পরীক্ষার্থীরা বের হয়ে আসছে। অর্থাৎ আইসিটি পরীক্ষা শেষ। এটাই হল চরম বাস্তবতা, এই পর্যন্ত শিক্ষার্থীর অবহেলা এবং যানজটকে দায়ী করতে পারি আমরা। ১৪/১৫ বছরের শিক্ষার্থীর এই ভুল কোন ছোট ভুল নয়। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের ভুলকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা সাইবার বুলিং এর সমান হিসেবে দেখছি।

এই দুই পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে কিভাবে পাস করেছে সেটা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘খামখেয়ালির কারণে আমাদের দুই শিক্ষার্থী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে নি। তবে আমি যতটুকু জানি তাদের ফলাফল ফেল এসেছে।’

এ দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে কিভাবে পাস করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা পাস করছে কি না জানি না। পরীক্ষার পর তারা স্কুলে আসেনি। ফলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

এ বিষয়ে কেন্দ্র বাঁশখালী-০১ (২০২) বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র সচিব রতন চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার বিষয়টি জানার পর আমি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আমাকে জানান এই দুই শিক্ষার্থী তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকবে এবং ফলাফল ফেল আসবে। তবে এই দুজন শিক্ষার্থী পাস করছে কি না আমি জানি না।’

বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এএমএম মুজিবুর রহমান জানান, ‘দুজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়ে পাস কিভাবে পাস করেছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!