পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ক্ষতির আশঙ্কা

ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়েছে কর্ণফুলী ও আশপাশের খালে

0

কর্ণফুলী নদীর ৩ নম্বর ডলফিন জেটি এলাকায় লাইটার জাহাজের সঙ্গে অয়েল ট্যাংকারের সংঘর্ষে ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়েছে নদী ও সংলগ্ন খালে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ট্যাংকারটি ফুটো হয়ে ১০ টনের মতো ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ে নদী ও খালে। ছড়িয়ে পড়া তেল তুলে নেয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সমূহ তৎপরতার পরও জোয়ার-ভাটার কারণে কিছু তেল এলাকার কয়েকটি জেটি ও জাহাজে লাগে। পরিবেশ দূষণের ক্ষতি এড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষের দুইটি লেবার বোট ‘বে ক্লিনার-১ ও ২’, ‘কাণ্ডারী ১০ ও ১১’ ৮ হাজার লিটার তেল তুলে নিতে সক্ষম হয়- যা ছড়িয়ে পড়া মোট তেলের ৮০ শতাংশ। রোববারও (২৭ অক্টোবর)ও তেল সরানোর কাজ চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তেল সরানোর পরও ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় দেখা গেছে ঘাসে-গাছপালায় তেল লেগে আছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভাসমান তেল জোয়ার-ভাটায় এলাকায় দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফার্নেস অয়েল নদীর পানিতে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং পানিকে অক্সিজেন শূন্য করে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। জলজপ্রাণি মারা যায়।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে বন্দরের ‘কাণ্ডারী-৮’ জাহাজের সাহায্যে লাইটারেজ জাহাজ দুটি আটক করে। এ সময় আটক করা হয় দুই জাহাজের মাস্টারসহ তিনজনকে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-পরিচালক ক্যাপ্টেন ফরিদ উদ্দিন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, অয়েল ট্যাংকার সংঘর্ষের পর থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

Furnace-Oil-1

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই অয়েল ট্যাংকার থেকে নিঃসরিত জ্বালানি তেল নদী থেকে তুলে নেওয়ার কাজ শুরু করে বন্দরের টিম। ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহ করাটাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এ পর্যন্ত ৮ হাজার লিটার তেল তুলে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী জাহাজের মালিকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ ও খরচ আদায় করা হবে।’

বন্দর সচিব আরো জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল খুলনায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাত ২টার দিকে মাঝনদীতে লাইটার জাহাজ ‘সিটি ৩৮’ ধাক্কা দিলে ফুটো হয়ে যায় অয়েল ট্যাংকার ‘দেশ-১’। এরপর নদীতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল। এতে প্রচুর পরিমাণে তেল কর্ণফুলী নদীতে ছড়িয়ে পড়ে কর্ণফুলী চ্যানেল ও জলজ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করায় দুই জাহাজ ‘সিটি ৩৮’ ও অয়েল ট্যাংকার ‘দেশ-১’কে নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে শুনানি শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ফার্নেস অয়েল পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়। পানিতে ভেসে ভেসে এ তেল বিভিন্ন জায়গায় যায়। এতে পানির গুণাগুণ নষ্ট হয়। মাছ মারা যায়।

এএস/ সিআর

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন