পরিবহন নেতা জানে আলমের ২ ‘ব্যবসা’য় লাখ টাকা আয় মাসে

অবৈধ গাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি বিক্রি

1

উপজেলায় তিনি এলডিপি নেতা। নগরে তিনিই আবার পরিবহন শ্রমিক নেতা। পুলিশ ও ট্রাফিক প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তার নেতৃত্বে চলছে প্রায় ৫ শতাধিক অননুমোদিত ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এই খাত থেকেই তার মাসিক আয় প্রায় লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট এলাকার জিপিও যাত্রী ছাউনির পাশে ফুটপাত দখল করে খোলা আকাশের নিচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, বিস্ফোরক আইনকে অমান্য করে উন্মুক্ত স্থানে দাহ্য পদার্থ বিক্রি হচ্ছে— এটা দেখার কি কেউ নেই, বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বাকলিয়া টু নতুন ব্রিজ, নতুন ব্রিজ টু নিউ মার্কেট ও টাইগারপাস এলাকায় রুট পারমিটবিহীন প্রায় ৫ শতাধিক মাহিন্দ্রা, ম্যাক্সিমা ও পিয়াজু গাড়ি চলাচল করছে। এসব গাড়ি থেকে দৈনিক ২০০, ওয়েবিল থেকে ১০০ ও ১০ টাকা হারে চাঁদা নেন জানে আলমের সংগঠনের লোকজন। এদের মধ্যে লিটন, কালু, হিরু, রফিক-১, রফিক-২, আবুল হোসেন, জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ কাশেম, রুবেলসহ আরো কয়েকজন নির্দিষ্ট মোড়ে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়িগুলোর কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করছেন।

জানা যায়, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কেশুয়া ইউনিয়নের ধাইয়ার বাড়ির দিনমজুর গুরামিয়ার পুত্র মোহাম্মদ জানে আলম। গত জাতীয় নির্বাচনে চন্দনাইশ উপজেলায় এলাকায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বাংলাদেশের (এলডিপি) সক্রিয় কর্মী ছিলেন। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নগরে থাকার সুবাদে যুক্ত হন চট্টগ্রাম অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নে। গত নির্বাচনে তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বিভিন্ন গাড়ির একাধিক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, গাড়ির ভাড়া সব সময় একই হয় না। ভাড়া পাওয়া না গেলেও জানে আলমের দলকে প্রতিদিন ২০০ টাকা দিতে হয়। অন্যথায় মারধরের শিকার হতে হয়। রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সময় পুলিশ ও ট্রাফিক সমস্যা করলে সংগঠনের নেতা জানে আলম ও জাহিদ ভাইয়েরা সব সমাধান করে ফেলেন। ডকুমেন্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও গাড়ি চলছে।

তারা জানান, এছাড়া ফুটপাতে জানে আলমের একটি তেলের দোকান রয়েছে। তার দোকান থেকে তেল বিক্রি করতে চালকদের বাধ্য করা হয়। যারা অন্য জায়গায় থেকে তেল কেনেন, পরেরদিন তাদেরকে আর গাড়ি চালাতে দেওয়া হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জানে আলমকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই প্রতিবেদক তার মুঠোফোনে এসএমএস পাঠিয়েও কোনো উত্তর পায়নি।

চট্টগ্রামের বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা দণ্ডনীয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ তেলের দোকান উচ্ছেদ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে নগর ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগের টিআই (প্রশাসন) মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘টাইগারপাস হয়ে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত কিছু গাড়ির রুট পারমিট আছে। লোকজনের সুবিধার্থে এই গাড়ি চলছে সংগঠনের নামে। টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। তবে আমি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি জাহিদ ও জানে আলমকে নামের পরিবহন নেতাদের চিনি। শহরের বেশিরভাগ এই ধরনের গাড়ি শ্রমিক সংগঠনের নামেই চলছে। তারপরও রুটে অবৈধ যানবাহনের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

জানে আলমের বিরুদ্ধে যত ফৌজদারি মামলা
গত জাতীয় নির্বাচনে চন্দনাইশে এলডিপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় জানে আলমের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক নাশকতার মামলা। ২০০৯ সালে এক নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা (নম্বর ২১২) দায়ের হয়েছে। একই বছরে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে নুরুল বাশার নামে এক শ্রমিক নেতা মামলা দায়ের করে। সম্প্রতি মোহাম্মদ দুলাল নামের এক ব্যক্তি জানে আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন তার বিরুদ্ধে।

মুআ/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

1 মন্তব্য
  1. সৈয়দ বলেছেন

    চট্রগ্রাম এ হালিশহর এ রকম পরিবহন নেতা আছে যারা ধোরা ছোয়ার বাহিরে আছে যাদের লিংক অনেক বড় যাদের দৈনিক আয় ১০/২০ হাজার টাকা রিক্সা ড্রাইভার থেকে আজ নেতা

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন