পতেঙ্গা সৈকতের ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের উদ্যোগ, শুরুতে প্রবেশমুখের ৩২টি

কোরবানী ঈদের আগেই চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সৈকতের ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। সৈকত থেকে তাদের সরিয়ে অন্য জায়গায় পুনর্বাসন করা হবে। ইতোমধ্যে সৈকত ঘিরে অবৈধভাবে অবস্থান করা ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে। প্রথমধাপে ৩২টি দোকান স্থানান্তরিত করা হবে।

সোমবার (২০ মে) পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় জানান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান বলেন, এটা পুনর্বাসন না, স্থানান্তর। প্রাথমিক পর্যায়ে সৈকতের মুখে যারা ব্যবসা করছে, তাদের সরিয়ে দিয়ে রাস্তার অন্যপাশে স্থানন্তর করা হবে। সৈকতের মুখে এমন ব্যবসায়ী আছেন ৩২ জন।

তবে পর্যায়ক্রমে সব ব্যবসায়ীদের সৈকতের আশপাশ থেকে তুলে রাস্তার অন্যপাশে স্থানান্তর করা হবে।

এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৈকত এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি পর্যটনের সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

তবে সী-বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির এ সিদ্ধান্তকে সৈকতের ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ জানালেও অভিযোগ উঠেছে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে দখলদারদের তালিকা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলায় সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে একটি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি রয়েছে। প্রতিমাসে সেই বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভা হয়। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম জেলা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি পতেঙ্গা বিচ সৌন্দর্যবর্ধন এবং শৃঙ্খলায় নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন রকম কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচকে ঘিরে অনেক খাবারের দোকান হয়ে গেছে। অথচ ওই জায়গা ছিল মূলত গ্রিন ফিল্ড (সবুজ বাগান) হিসেবে রাখার জন্য। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এসে সৈকতের সেই সৌন্দর্য দেখতে পারে না।’
গত সপ্তাহে জেলা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমুদ্র অংশে যে দোকানগুলো রয়েছে সেগুলো কান্ট্রি সাইডে শিফট করা হবে। প্রত্যেকটি দোকানের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ হবে এবং নির্দিষ্ট ডিজাইনে একইরকম দোকান করা হবে। পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে দোকান করা; যেন ঝড়-বৃষ্টি ও বাতাসে ঠিক থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই সময়ে একই রকম দোকান হলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগসহ আরও উন্নয়নের কর্মসূচির উদ্যোগ নেবেন। স্টোক হোল্ডারদের অবহিত করা হয়েছে এবং দোকানগুলো শিফট করার জায়গা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সভায় চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সদস্য ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ, সহকারী পুলিশ সুপার (এসএএফ) মনীষ দাশ, সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (কর্ণফুলি) আসিফ মাহমুদ গালিব, হোটেল মোটেল সৈকতের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সদস্য চৌধুরী ফরিদ, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বিএস/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!