পতেঙ্গায় যুবক খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যাওয়া এক যুবককে খুনের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা এক সংবাদ সম্মেলনে সাতজনের গ্রেপ্তার করাসহ এ হত্যার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসি শাকিলা সোলতানা বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত নয়। মোটরসাইকেলের সাইলেন্সরের উচ্চশব্দ নিয়ে ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। পরে এর জেরে রাফিকে ছরিকাঘাত করে খুন করে। হত্যাকাণ্ডটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় পাড়া-মহল্লায় যেসব কিশোর গ্যাংয়ের ঘটনা ঘটে, ঠিক সেই ধরনের। তবে এটা সামাজিক অবক্ষয় বলা যায়। কাউকে সহ্য না করা, সম্মান না করা বা ধৈর্য্যর সঙ্গে কোনো কিছু মোকাবেলা না করাসহ এক ধরনের অশোভন পরিবেশ আমাদের এখানে তৈরি হয়েছে।’

এছাড়া রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে কিনা, সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এর আগে রোববার (৯ জুন) ভোরে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন টানেলের প্রবেশমুখের গোলচত্বরে মোটরসাইকেলের উচ্চ শব্দ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি লাগে। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে খুন হন মনিরুজ্জামান রাফি (২৫)। নিহত রাফি নগরীর বন্দর থানার বাকের আলী ফকিরের টেক এলাকার মোহাম্মদ রফিকের ছেলে।

ওই ঘটনায় রায়হান নামে নিহতের এক বন্ধুও গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন মো. জাহিদুল ইসলাম (২২), মোবারক হোসেন (২৩), মো. ইকবাল হোসেন ইমন (২২), শাহরিয়ার আল আহমেদ (২০), তাহরিয়ার আহমেদ বাঁধন (২০), মো. মারুফ চৌধুরী (২১) ও মো. জুবায়ের বাশার (৩৪)।

পুলিশ জানায়, কথা কাটাকাটির জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। জড়িতরা সবাই উঠতি বয়সের তরুণ। তারা পাড়া-মহল্লার অপরাধী চক্র হিসেবে পরিচিত কথিত ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সদস্য। বেপরোয়াভাবে বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি, চালানোর সময় বিকট শব্দ তৈরি করা হিরোইজম প্রদর্শন, মারামারিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত রয়েছে তারা।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন ১৫ জনের গ্রুপটি চারজনের ওপর হামলা করে। হামলার একপর্যায়ে রাফিকে অপরপক্ষের লোকজন ছুরিকাঘাত করে। সেখানে রাফিকে বাঁচাতে গেলে তার বন্ধু রায়হানকে মারধর করে তারা। গুরতর আহত অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাফিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানিয়েছে, রাফিকে ছুরিকাঘাত করা মোবাকর হোসেনসহ মোট সাতজন এই পর্যন্ত গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবিরুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘ওইদিন রাতে রাফি ও তার তিন বন্ধু পতেঙ্গার কোরবানির পশুরহাটে গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে মোটরসাইকেল করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় ঘুরতে যান তারা। এসময় তাদের মোটরসাইকেলের উচ্চশব্দ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ছেলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দু’পক্ষকে থামিয়ে পাঠিয়ে দেন স্থানীয়রা।

ওসি আরও জানান, ঘটনার পর রাফি ও তার বন্ধুরা কিছুক্ষণ সী-বিচ এলাকায় ঘুরাঘুরির এক পর্যায়ে মামলার আসামি মোবারক তার গ্রুপ নিয়ে এসে আবার তাদের ওপর হামলা করে। এসময় মোবারক তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রাফিকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়েই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওইদিনই প্রথমে চারজন ও পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে মোবারকসহ বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

এমএ/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!