পটিয়ায় ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে উত্তেজনা, জেলার নেতারা বলছেন ‘ভুয়া কমিটি’

0

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৬ জুন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে। ঠিক প্রায় এক মাসের ব্যবধানে মঙ্গলবার ২৬ জুলাই পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর দেখা দেয় উত্তেজনা।

এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের প্যাডে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল আল নোমান, আনিস আহমেদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী তিন মাসের জন্য পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন বলে দাবি করেন কমিটির আহবায়ক সাকিব হোসেন। কমিটিতে সাকিব হোসেনকে আহবায়ক করে ১৯ জনকে যুগ্ম আহবায়ক এবং ১১ জনকে সদস্য করে এ কমিটি দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে পাল্টা এ কমিটির একটা তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বিরাজ করছে উপজেলা জুড়ে। যাদের সিল স্বাক্ষরে কমিটির অনুমোদন দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে খোদ তারাই বুধবার সকাল থেকে তাদের নিজ নিজ ফেসবুক টাইমলাইনে তাদের নাম ব্যবহার করার ‘তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ জানাচ্ছেন।

এমনকি আনিস আহমেদ নামের জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতির নাম ও সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে সেই নামের কোন সহ-সভাপতি নেই বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম বোরহান উদ্দিন।

Yakub Group

জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল আল নোমান তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘হঠাৎ পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন শিরোনামের সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেখানে আহ্বায়ক কমিটি গঠনে যে সভার কথা এবং তিন মাসের কমিটি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে বস্তুত তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ৷ আমার জানামতে এ ধরণের অবৈধ কমিটি গঠন সংক্রান্ত কোন মিটিংয়ে আমি উপস্থিত ছিলাম না। এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং আমার ব্যক্তিগত সন্মান হানির চেষ্টা করেছে। আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি/সম্পাদক ঘোষিত পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাফল্য কামনা করছি।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন হাসানও তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘আমার নাম ও সিল স্বাক্ষর জাল করে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের পাল্টা কমিটি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে বস্তুত তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট৷ এ ব্যাপারে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করব । আমার জানামতে এ ধরনের কোন মিটিং বা সিদ্ধান্ত হয় নাই জেলা ছাত্রলীগের।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকেই আমাদের নজরে আসে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের একটি ভুয়া কমিটি গঠনের। যাদের সিল স্বাক্ষর জাল করে কমিটির অনুমোদন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে তারাই তো তাদের ফেসবুক পেইজে এরকম একটা মিথ্যা ভুয়া কমিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে এবং এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’

জেলা ছাত্রলীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘এ ধরনের ভুয়া খবর ছড়িয়ে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন যারা,. তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা নেবো।’

অপরদিকে ঘোষিত পাল্টা কমিটির আহবায়ক সাকিব হোসেনের কাছে তাদের এ কমিটির স্বাক্ষরিত জেলা নেতাদের নয় বলে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এসব ব্যাপারে জানি না। জেনে আপনাকে জানাতে পারব।’

তবে তিনি একমাস আগে জেলা ছাত্রলীগের ঘোষিত পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন তাও স্বীকার করেছেন।

জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তারেকুর রহমান তারেক বলেন, বুধবার ফেসবুকে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি সংক্রান্ত একটা ছবি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পটিয়া ছাত্রলীগের সুশৃঙ্খল ছাত্ররাজনীতিকে অশান্ত রাজনীতির দিকে যারা ধাব্তি করতে চায় যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেখানে আমার নাম ব্যবহার হয়েছে তাতে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। কারণ আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী হিসাবে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী সংগঠনের ক্ষতি হয় সেরকম কোন কাজ করতে পারি না। চট্টগ্রাম দক্ষিণ ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে যাদেরকে উপযুক্ত মনে করে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন এবং কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন তার সাথে আমি একমত পোষণ করছি এবং তাদের প্রতি আমার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। গ্রুপিং রাজনীতি সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর সুতরাং এ পাল্টা কমিটি আমি প্রত্যাখ্যান করছি এবং তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।’

জানা গেছে, গত মাসের ২৬ জুন আরাফাত শাকিলকে সভাপতি ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের ১৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রলীগ।

এদিকে সেই কমিটির জের ধরে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে দুই জন সহসভাপতি ও একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে জেলা ছাত্রলীগের ভুয়া প্যাডে উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশ আরেকটি কমিটি ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনিস আহমেদের নাম ব্যাবহার করেছেন সেই নামে কেউ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে অস্তিত্ব ও নেই বলে জানা গেছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা কর্মী জানান, কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm