পটিয়া হাসপাতালে বসবে ১০ ডায়ালাইসিস মেশিন, চালু হবে ফিজিওথেরাপি
‘খালি হাতে আসিনি’, রোগীদের দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গা নেই। শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। প্রতিদিন বহির্বিভাগে হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, ভর্তি হন ১২০ থেকে ১৫০ জন। পটিয়াসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। এমন পরিস্থিতিতে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে রোগীদের দুর্ভোগ দেখলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আর সেখানেই দিলেন একগুচ্ছ ঘোষণা—আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ১৫১ শয্যায় উন্নীতকরণের টেন্ডার, নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ, ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি ও চালু হবে উন্নত প্যাথলজি সেবা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাকে প্রধানমন্ত্রী পাঠিয়েছেন। আমি খালি হাতে আসিনি। হাসপাতালের সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার টেন্ডার কার্যক্রম আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন। শয্যার সংকটে মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। এরপরই হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক সেবার ঘোষণা দেন।
পটিয়া হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য চালু হবে ডায়ালাইসিস সেবা। এজন্য রাখা হবে ১০টি শয্যা ও ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাবেন বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ফলে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবার পরিধিও বাড়বে হাসপাতালে।
শুধু অবকাঠামো নয়, চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ঘোষিত জনবলের মধ্যে রয়েছেন—চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচজন মেডিকেল অফিসার, চারজন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন বাবুর্চি ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। হাসপাতালটিকে আরও কার্যকর করতে উন্নতমানের প্যাথলজি সেবা চালুর পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নারী ও পুরুষ চিকিৎসক দেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী।
পটিয়া হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের দাবির বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু অর্থ ব্যয় করলেই আইসিইউ চালু করা যায় না, এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করেই ভবিষ্যতে আইসিইউ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পটিয়া হাসপাতাল পরির্দশন শেষে মন্ত্রী পটিয়ার পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এসময় তিনি এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির জরাজীর্ণ দশা দেখে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে তাতক্ষণিক স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এইচইডি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পটিয়া হাসপাতালের জন্য ৫০টি রেবিস ভ্যাকসিন, ৫০টি রেবিস আইজি, ১৫০টি ডায়রিয়ার স্যালাইন ও ২০টি অ্যান্টিভেনম দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, পটিয়া একসময় মহকুমা সদর ছিল। বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা বিবেচনায় তখন এখানকার স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে পটিয়াসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার বিপুলসংখ্যক রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আকস্মিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেছেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।
পরিদর্শনের সময় সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস এবিএম ইফকেখারুল ইসলাম খন্দকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিজে




