পটিয়ায় ৬০ হাজার কোরবানির পশু মজুদ, তবুও চুরির আতঙ্ক খামারিদের

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের পটিয়ায় কোরবানির পশু সরবরাহে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। এবার উপজেলায় মোট প্রায় ৬০ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ৫৭ হাজার ১২০টি। সবকিছু ঠিক থাকলে চাহিদা পূরণ শেষে প্রায় ২ হাজার ৬১৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে- ২৬ হাজার ৭১৬টি ষাঁড়, ৩ হাজার ৮৫০টি মহিষ, ৬ হাজার ৫৪৯টি বলদ, ২ হাজার ১২০টি গাভী, ১৬ হাজার ১১০টি ছাগল এবং ৪ হাজার ৩৯০টি ভেড়া। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের খামারেও এসব পশু লালন-পালন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, এবারের ঈদকে সামনে রেখে আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। খামারিদের প্রশিক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান ও নিরাপদ পশু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। বাইরে থেকে পশু আনার প্রয়োজন হবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিয়মিত খামার পরিদর্শন করছি এবং বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে মনিটরিং টিম কাজ করবে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর হরমোন বা অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে।

তবে পশুর পর্যাপ্ততা থাকা সত্ত্বেও খামারিদের মধ্যে এক ধরনের অজানা আতঙ্ক কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা উদ্বেগে রয়েছেন।

কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা এলাকার খামারি নুরুল আলম বলেন, গভীর রাতে ১০-১২ জনের একটি মুখোশধারী দল আমার গোয়ালঘরের দরজার লোহার শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।

তিনি বলেন, তারা খুব পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। প্রথমে আমাকে অচল করে ফেলে, এরপর ঘরে ঢুকে স্টিলের আলমিরা ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে গোয়ালঘর থেকে আমার ৪টি লাল রঙের ষাঁড়ও নিয়ে যায়, যেগুলোর আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা। ডাকাত দল চলে যাওয়ার সময় আমাকে হুমকি দিয়ে যায়। তারা বলেছে, বিষয়টি কাউকে জানালে কিংবা আইনের আশ্রয় নিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে।

আরেক খামারি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ঈদের আগে গরুর দাম ভালো থাকার কথা। কিন্তু চুরির আতঙ্কে অনেকেই গরু বিক্রি করে দিতে চাইছে আগেভাগেই। এতে আমরা ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা অনেক কষ্ট করে গরু বড় করি। কিন্তু রাতের বেলা চোরের ভয়ে ঘুমাতে পারি না। কয়েকদিন পরপরই কোথাও না কোথাও গরু চুরির খবর শুনছি।

খামারিদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় রাতের নিরাপত্তা দুর্বল, পর্যাপ্ত টহল না থাকায় চোর চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম খামারিদের উদ্বেগের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, ডেইরি খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খামারিরা যাতে নিরাপদে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, গরু চুরি রোধে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। খামারিদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পটিয়া ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কপিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গরু ও মহিষ চুরি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সশস্ত্র ডাকাতদল সরাসরি হামলা চালিয়ে গরু মহিষ লুট করে নিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এসব ঘটনাকে অনেক সময় সাধারণ চুরি হিসেবে দেখানো হয়, যা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও শঙ্কিত করে তুলছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুক। পাশাপাশি খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হোক।

ডিজে

ksrm