পটিয়ায় শুঁটকি ব্যবসায়ীর পিকআপ লুট, বাশঁখালী থেকে গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস অংশে ছিনতাই চক্রের তৎপরতা আবারও আলোচনায় এসেছে। নির্জন সড়ককে টার্গেট করে রাতের আঁধারে পরিবহন থামিয়ে মালামাল লুটের অভিযোগ নতুন নয়। এবার এক শুঁটকি ব্যবসায়ীর পিকআপ থামিয়ে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক শুঁটকি লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে বাঁশখালী থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুট করা বেশ কিছু মালামাল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বাইপাস সড়কে শুঁটকি ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমান তার পিকআপে করে সামুদ্রিক শুঁটকি পরিবহন করছিলেন। এ সময় সড়কের নির্জন অংশে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার গাড়ির গতিরোধ করে।

অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা ৪ হাজার ১২০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক শুঁটকি, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এসবের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি পটিয়া থানা পুলিশকে জানানো হলে তার্ অভিযান শুরু করে।

এরপর সোমবার রাত ৩টা ২০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মো. মামুন (২১) এবং মারুফ হাসান রাফী (১৪) নাম এক শিশুকে আটক করা হয়।

তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া পিকআপ এবং ৩ হাজার ৩২০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক শুঁটকি
উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর এজাহারের ভিত্তিতে পটিয়া থানায় সোমবার দুপুরে মামলা রুজু করা হয়েছে। এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত মালামালের বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বলছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বাইপাস সড়কের কিছু নির্জন অংশে রাতে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে মাছ, শুঁটকি ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারী গাড়িগুলো বেশি টার্গেটে পড়ে। তাদের দাবি, নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হলে এসব অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

ডিজে

ksrm