পটিয়ায় মাসব্যাপী বিতর্ক কর্মশালায় সনদ পেলো ৯৪ শিক্ষার্থী

যুক্তির ধার বাড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী ও যুক্তিবাদী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে পটিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো মাসব্যাপী বিতর্ক কর্মশালার সমাবর্তন। শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতা বাড়াতে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় পটিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার সক্ষমতাই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে। বিতর্কচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তা, আত্মবিশ্বাস, শ্রবণদক্ষতা ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তৈরি হয়।

প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির আয়োজনে এবং লায়ন ক্লাব অব চট্টগ্রাম বাকলিয়ার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালার সমাবর্তনে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর কর্মকর্তা লায়ন একেএম সালাউদ্দিন, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা, জেলা দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী জয় দত্ত বড়ুয়া, ব্যাংক এশিয়ার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমান মনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক সিরাজুল মোস্তাফা, প্রত্যয়ের নির্বাহী সদস্য এস এম হারুনুর রশীদ এবং সিনিয়র সদস্য এরশাদ হোসাইন।

প্রত্যয়ের সিনিয়র সদস্য নীহারিকা পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন একেএম সালাউদ্দিন বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রেই যৌক্তিক চিন্তার চর্চা বাড়ানো জরুরি। আবেগ বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়, যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই টেকসই সমাধান সম্ভব। বিতর্ক কর্মশালা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনা এবং নিজের বক্তব্য কার্যকরভাবে উপস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

কৃতি বিতার্কিক মুজিবুর রহমান মনি বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তি বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের পাশাপাশি মতভেদকে সহনশীলভাবে গ্রহণ করতে শেখে। বিতর্কের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং যৌক্তিকতার মাধ্যমে সত্যকে অনুসন্ধান করা। জীবনে কিংবা রাজনৈতিক পরিসরে পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে সমাজের অনেক সংকটেরও সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মাসব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেওয়া ৯৪ শিক্ষার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রদর্শনী সনাতনী বিতর্ক ও বারোয়ারী বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

ডিজে

ksrm