পটিয়ায় চোরাই সিএনজি কেনাবেচার বড় চক্র, ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি সংঘবদ্ধ চোরাই সিএনজি অটোরিকশা কেনাবেচা চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি চোরাই সিএনজি অটোরিকশা, যার মধ্যে তিনটির কোনো নিবন্ধন নম্বরই নেই।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া থানা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক।

পটিয়া থানা পুলিশ সূত্র জানা গেছে, সম্প্রতি পটিয়া ও আশপাশের এলাকায় চোরাই সিএনজি অটোরিকশা কেনাবেচার তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। কয়েকদিন ধরে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যেবক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত করার পর গত রোববার দুপুর দেড়টার দিকে পটিয়া পৌরসভার বাহুলী এলাকায় কৃষি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্ব পাশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন ফাতেমা মোটরসের সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সিএনজি অটোরিকশা কেনাবেচার সময় মো. নুরুল আমিন (৩০), উজ্জ্বল মিয়া (৩৬) ও রিমন আহমদকে (২৭) হাতেনাতে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার ৪টি সিএনজির প্রকৃত মালিকদের খোঁজা হচ্ছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া চারটি সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে তিনটি ছিল সম্পূর্ণ নম্বরবিহীন। অপরটির নিবন্ধন নম্বর চট্টমেট্রো-থ-১১-৪৩৪৩। উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে বিভিন্ন জেলার থানার তথ্য, বিআরটিএর নিবন্ধন তথ্য এবং চুরির মামলার ডাটাবেজ যাচাই করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব গাড়ির কিছু বিভিন্ন জেলা থেকে চুরি করে এনে কম দামে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আন্তঃজেলা পর্যায়ে সক্রিয় এই চক্র চুরি করা সিএনজি অটোরিকশার নম্বরপ্লেট পরিবর্তন, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত কিংবা নম্বরবিহীন অবস্থায় বিক্রির কৌশল ব্যবহার করে থাকে। সেই নেটওয়ার্কের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, চোরাই গাড়ি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত কোনো চক্রকে আইনের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং মাঠপর্যায়ের অভিযানের সমন্বয়ে আমরা সংঘবদ্ধ অপরাধীদের শনাক্ত করছি। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের মূলহোতা ও অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া সিএনজিগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিজে

ksrm