নৌকা ডোবাতে বিদ্রোহীর পক্ষে ভোট চাইছেন আওয়ামী লীগ নেতারাই

0

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চেয়ারম্যান পদে অধিকাংশ ইউপিতে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এর মধ্যে বারশত ইউনিয়নে প্রকাশ্যে ও লুকিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোট চাইতে দেখা ও জানা গেছে খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়নের ১০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপরীতে আছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তার মধ্যে ৭ ইউনিয়নের ৭ বিদ্রোহী প্রার্থীকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে দল থেকে। তবে আওয়ামী লীগের বেশকিছু নেতাকর্মীরা বিদ্রোহীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নির্বাচনী মাঠে এই দলের ভেতর উত্তেজনা বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পঞ্চম ধাপে বারশত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের সঙ্গে আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক। ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল হালিম, নুর কাইয়ুম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি নবী হোসেন, বারশত ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈনুদ্দিন গফুর খোকন, ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ জানে আলম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুর খান, মাদক ব্যবসায়ী জালালসহ একাধিক নেতাকর্মী। ৫নং বরুমচড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল ইসলাম চৌধুরীরে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও সাবেক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বশর। তাদের পক্ষেও কাজ করছেন বরুমচড়া ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক আমির খান। এমনটাই জানিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সেলিম। যারা নৌকার বিরোধিতা করছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।

জানতে চাইলে বারশত ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈনুদ্দিন গফুর খোকন বলেন, আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আমি কেন নৌকার বিরোধিতা করব? ব্যক্তি ভালো লাগছে না। তাই কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করছি না।

এদিকে রায়পুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি আমিন শরীফ ও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল কাদের। বটতলী ইউনিয়নে অধ্যাপক এমএ মান্নান চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী সোহেল। আনোয়ারা সদর ইউনিয়নে অসীম কুমার দেবের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দিদারুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম। পরৈকোড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন, স্বতন্ত্র হাসান জিয়াউল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশরে প্রার্থী আবদুল হক। হাইলধর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা হাইলধর ইউনিয়নের মোহাম্মদ সোলেমান ও আবু তাহের। এসব ইউনিয়নে একই অবস্থা। রাতের আধারে লুকিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিদ্রোহীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বারশত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ব্যক্তি কোন্দলের কারণে নৌকা পরাজয়ের লক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন অনেক নেতাকর্মী। বিপক্ষে বিদ্রোহীর হয়ে নির্বাচনী মাঠে দিনরাত কাজ করছেন। তবে হাজারও ষড়যন্ত্রের পরও নৌকার জয় সুনিশ্চিত করতে দিনরাত আমরা মাঠে রয়েছি।

তিনি বলেন, যে সব নেতাকর্মী নৌকাকে পরাজিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে যেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

৫ জানুয়ারি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে বৈরাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানসহ ৩ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ মালেক জানান, দলের হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সহযোগিতা করা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। যারা আওয়ামী লীগের প্রাথীদের বিপক্ষে অবস্থায় নিয়ে নিজে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন। তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে যেসব নেতাকর্মী কাজ করছেন তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নৌকার বিরোধিতা করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের স্থায়ীভাবে বহিস্কার করতে সুপারিশসহ নামের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অর্থাৎ নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে যে সকল নেতা কাজ করছেন বা প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm