চট্টগ্রামে চেক প্রতারকচক্র, মূল হোতা জাতীয় পার্টির নেত্রী

‘নেত্রীদের এমন হতে হয়’

1

ব্ল্যাঙ্ক চেক ও খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে কোটি টাকার চেকের মামলা দেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি। কেউ তার কাছ থেকে টাকা ধার নিলে তিনি ১০ গুণ পরিমাণ টাকার সংখ্যা চেকে বসিয়ে ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন খারাপ কাজ করতে বাধ্য করাতেন। নিজেকে তিনি কখনও সাংবাদিক, কখনও ভোক্তা অধিকার কর্মী, কখনও জাতীয় পার্টির নেত্রী, আবার কখনও ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিতেন। নাম তার মুক্তা— কাজী প্রিয়া আক্তার মুক্তা। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক তিনি।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে গাউসিয়া আবাসিক এলাকায় চালানো অভিযান ‘গুণধর’ এই প্রতারক র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে এসেছে তার প্রতারণার নানা কাহিনী। গাউসিয়া আবাসিক এলাকার ফাতেমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ।

গ্রেপ্তার হওয়া মুক্তার প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ঘটনা তুলে ধরে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘তার অনেক ক্ষমতা। তিনি সাংবাদিকও, তার সঙ্গে পুলিশেরও হাত আছে। আর রাজনীতিতেও তার ভাল পদ আছে। বড় বড় মানুষের সাথে তার ওঠাবসা। তিনি আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে আসছেন।’

বুধবার (১৬ অক্টোবর) গাউসিয়া আবাসিকের ওই অভিযানে প্রতারকচক্রের নেত্রী মুক্তাসহ ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজেকে নেত্রী পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘নেত্রীদের এমন হতে হয়, যদি এমন না করি তাহলে বড় নেত্রী হওয়া যায় না, আমি আবারও ফিরে আসব।’

গ্রেপ্তারকৃত তিন প্রতারকচক্রের মূল হোতা কাজী প্রিয় আক্তার মুক্তা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার আড়াইসিধা চকবাজার থানার আজিমুদ্দিন হাজি বাড়ির শহীদুল ইসলাম খানের মেয়ে। তার স্বামী জহরুল হক মৃধা, তিনি রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার রুঘু পাড়া দক্ষিণ জামালপুরের মোজাম্মেল হক মৃধার ছেলে। অন্যজন হলেন মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার উত্তর বাশকান্দির সেকান্দর আলীর ছেলে রেজাউল করিম।

গ্রেপ্তার মুক্তা এলাকায় নিজেকে কখনও সাংবাদিক, কখনও ভোক্তা অধিকার কর্মী, কখনও জাতীয় পার্টির নেত্রী, আবার কখনো ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিতেন। মুক্তা এসব পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করছিলেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগরের জাতীয় পার্টির সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘কাজী প্রিয়া আক্তার মুক্তা বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরের জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক।’

এদিকে র‌্যাব জানিয়েছে, রোববার (১৩ অক্টোবর) মুক্তার কাছে প্রতারণার শিকার ফাতেমা বেগম, সীমা বেগম, রিনা বেগম ও নাজমা বেগম নামের চারজন র‌্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে অভিযোগ দায়ের করলে আমরা গোপনে তদন্ত করে গোয়েন্দা তথ্যের যাচাই বাছাই করে অভিযান চালাই। অভিযানে র‌্যাব ৩৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যমানের ২১টি চেক, ১ হাজার ২ কোটি টাকার চেকের ফটোকপি ৭৩টি, ১৪টি স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাংক চেক, ১৪টি ব্ল্যাংক চেকের ফটোকপি, হিসাব বই ৯টি, ৩২ পৃষ্ঠা ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প, ২১৩ পৃষ্ঠা ভুয়া চুক্তিনামা, ভুয়া আইডি কার্ড ৫টি, ৬টি মোবাইল এবং বিভিন্ন মামলার বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র উদ্ধার করে।

জব্দকৃত ব্যংক চেক, চেকের ফটোকপি ও মামলার নথি
জব্দকৃত ব্যংক চেক, চেকের ফটোকপি ও মামলার নথি

র‌্যার কর্মকর্তা বলেন, ‘মুক্তাসহ তার সহযোগীরা মিলে সাধারণ মানুষকে টাকা ধার দিয়ে ব্ল্যাঙ্ক চেক নিতো। পরবর্তীতে চেকগুলোতে মুক্তা ইচ্ছামত টাকার সংখ্যা বসাতো ফলে সাধারণ মানুষ টাকা দিতে পারত না। টাকা দিতে না পারলে মুক্তা তাদের দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিত। এর মাধ্যমে টাকা পরিশোধের একটা উপায় পেলেও কাজ শেষ হলে মুক্তার বিভিন্ন পরিচয়ের কারণে মামলার হুমকি দিতো। এতে অনিচ্ছায় কাজ করতেন ভুক্তভোগীরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাকিতে টাকা দিয়ে সম্পর্ক গড়ে কিছু টাকা লেনদেন হওয়ার পর ব্ল্যাঙ্ক চেক ও ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে কোটি টাকার মামলার ভয় দেখিয়ে সে নিরীহ ও অসহায়দের ব্ল্যাকমেইল করেছে।’

এইচটি/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

1 মন্তব্য
  1. Sanjoy বলেছেন

    কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন