নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, এবার ‘জুলাই গ্রাফিতি’ আঁকছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
সভা-সমাবেশ ও জমায়েতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এবার সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জুলাই গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে। এর আগে দিনভর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও গ্রাফিতি অঙ্কন নিয়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো.শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে সকাল ৭টা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিএমপি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটা ভিডিও দেখলাম, পুলিশের সাথে কিছু মেয়ে গ্রাফিতি করতে এসেছে, কথা কাটাকাটি বাকবিতণ্ডা হয়েছে। আমি তখনি পুলিশকে রিকোয়েস্ট করেছি ১৪৪ ধারা উঠিয়ে দেন। যাদের ইচ্ছে তারা গ্রাফিতি করুক। প্রয়োজনে হোম মিনিস্ট্রিতে কথা বলেন। একটু আগে, চারটা, সাড়ে চারটার দিকে আমাকে পুলিশ কমিশনার ফোন করেছিলেন, ঢাকা থেকে থেকে পারমিশন পেয়েছেন, উইথড্র করে দেবেন। পুলিশকে বলেছি, পারলে ছয়টা থেকে গ্রাফিতি করার পারমিশন দিয়ে দেন।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এলিভেটেড এক্সপ্রেওয়ের পিলারে জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু হয়। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় এলাকায় বেশ কয়েকজনকে রং নিয়ে হাজির হতেও দেখা যায়। সেখানে উড়াল সেতুর পিলার গুলোতে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীকেও।
পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি
সোমবার সকালে প্রধান সড়কে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করলে তা ভঙ্গ করে অবস্থান নেয় একদল সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের পিলারে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে অনেককে রাস্তায় শুয়ে পরতে দেখা যায়। রংয়ের গ্যালন নিয়ে ধস্তাধস্তিতে নারী পুলিশ সদস্যদেরও গায়ে রঙ লাগতে দেখা যায়। এরপর রংয়ের বালতি ফেলে অনেকে সড়কে শুয়ে পড়েন।
পরে বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীদের একটি দল।
তাদের মধ্যে তানিয়া আকতার নামে একজন বলেন, ‘আমি চার মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা। পুলিশ আমাকে টানা-হেঁচড়া করেছে।’
এর আগে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, কিছু লোকজন টাইগারপাস মোড়ে রং নিয়ে এসেছে। এখানে ১৪৪ ধারা চলছে। তাদের বুঝিয়ে চলে যেতে বললে তারা বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। পরে সরিয়ে দিতে গেলে অনেকে রাস্তায় শুয়ে যায়। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
এ ঘটনায় এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গ্রাফিতি অঙ্কনে পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীকেও যদি গ্রেপ্তার করা হয়, আমরা এর শেষ দেখে নেব।
আইএমই/ডিজে




