আক্রান্ত
১০৪৭৭
সুস্থ
১২৬৫
মৃত্যু
১৯৮

নিলামের গাড়ি যেভাবে কিনবেন চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে

0
high flow nasal cannula – mobile

কাস্টম হাউসের নিলামে তোলা এক বা একাধিক গাড়ি বা পণ্য যে কেউ কিনতে পারেন। এজন্য বিশেষ কোনো যোগ্যতার দরকার নেই। দরকার নেই ট্রেড লাইসেন্স, আইআরসি, ইআরসি, ভ্যাট সনদ বা অন্য কোন কাগজপত্র। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সবচেয়ে বড় নিলামটি এবার হতে যাচ্ছে ৩০ জুন। এতে মোট ২০০টি কনটেইনার নিলামযোগ্য পণ্যের নিলাম হবে।

নিলামে অংশ নিতে হলে কেবল একটা আয়কর সনদ থাকতে হবে। এটা এআইটি জমা দেয়ার জন্য ও পরে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জন্য এমনিতেই লাগবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলামে এছাড়া লাগে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র।

বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে আনা ও মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানিসহ জালিয়াতির কারণে পণ্য খালাস আটকে দেয় কাস্টম কর্তৃপক্ষ। আবার আমদানির পর পণ্য যদি এক মাসের মধ্যে না নেওয়া হয়, তাহলে সেগুলোকে ‘মিস ডিক্লারেশন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপরও পণ্য আমদানিকারক না নিয়ে গেলে সেগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নিলামে তোলা হয়। এই নিলামের সবকিছু দেখভাল করে কাস্টমসের নিলাম শাখা।

করোনাভাইরাসের কারণে বেশ অনেকদিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম কাস্টমসের সবচেয়ে বড় নিলামটি এবার হতে যাচ্ছে ৩০ জুন। নিলামে তোলা হবে সাধারণ গাড়ি থেকে বিলাসবহুল গাড়ি, স্টিল পণ্য, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, বিভিন্ন ধরনের কাপড়, কেমিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, পেপার ও পেপারসামগ্রী, হার্ডওয়্যার, টেক্সটাইল মেশিনারিজ, সিরামিক আইটেমসহ নানান ধরনের পণ্য। এতে মোট ২০০টি কনটেইনার নিলামযোগ্য পণ্যের নিলাম হবে। ১৬৪টি লটে ভাগ হবে এসব কনটেইনার। একটি লটে এক থেকে তিনটি কনটেইনার পণ্যও রয়েছে। কাস্টমসের নিলাম শাখা সূত্র এ তথ্য চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ কমিশনার (নিলাম শাখা) ফরিদ আল মামুন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, কাস্টমস নিলাম থেকে অনেকেই জাপানের রিকন্ডিশনড্ গাড়ি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। অনেকে আবার আমাদের কাছে ব্যক্তি হিসেবে নিলামে গাড়ি কেনার উপায় জানতে চান।

কাস্টম হাউসের নিলামে তোলা এক বা একাধিক গাড়ি বা পণ্য যে কেউ কিনতে পারেন। এজন্যে বিশেষ কোন যোগ্যতার দরকার নেই। দরকার নেই ট্রেড লাইসেন্স, আইআরসি, ইআরসি, ভ্যাট সনদ বা অন্য কোন কাগজপত্র।

তিনি জানান, নিলামে অংশ নিতে হলে কেবল একটা আয়কর সনদ থাকতে হবে। এটা এআইটি জমা দেয়ার জন্য ও পরে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জন্য এমনিতেই লাগবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলামে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে।

নিলামে অংশগ্রহণে কী করতে হবে
নিলামে গাড়ি বা পণ্য কেনার আগে সেখানকার ক্যাটালগ (লটভিত্তিক তালিকা) কিনতে হবে। এটা সরকারি নিলামকারীর কাছে থাকে। সব কাস্টমস অফিসে একজন নিলামকারী থাকেন। চট্টগ্রাম কাস্টমসে এই ক্যাটালগের দাম রাখা হয় ২০০ টাকা।

আপনাকে নিলামে অংশ নেওয়ার সরকারি নিলামকারীর কাছ থেকে সিডিউল কিনতে হবে (প্রতি লটের জন্য একটি শিডিউল কিনতে হয়)। যেমন তিনটি গাড়ির জন্য বিড (নিলাম-ডাক) করলে তিনটা শিডিউল কিনতে হবে। শিডিউলের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা হতে পারে।

সিডিউলে উল্লেখ করা তথ্যগুলো স্পষ্ট করে বাংলায় পূরণ করে লিখতে হবে। যে লটটি কিনতে চান, সেটি ক্যাটালগের কত নম্বর— সেটা পণ্যের বর্ণনাসহ উল্লেখ করতে হবে। আপনি যে লটটি যত মূল্যে বিড করতে চান, সেই কোটেশন মূল্যের ওপর ১০% হারে জামানত পেঅর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট শিডিউলের সাথে জমা দিতে হবে। সিডিউলে পণ্যের মূল্য অংকে ও কথায় স্পষ্টাক্ষরে লিখতে হবে।

বিডের সাথে অবশ্যই আয়কর সনদপত্র জমা দেবেন। জাতীয় পরিচয়পত্রও জমা দিতে হবে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলামে । কাস্টম হাউসগুলোতে সচরাচর প্রতি মাসে একবার নিলাম হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নিলামে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ বিডার ইকবাল হোসেন নতুন বিডারদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনাকে শিডিউল জমার নির্ধারিত দিনক্ষণে বিড বা দর প্রস্তাব জমা দিতে হবে। শিডিউল কেনার সময় নিলামকারীর কাছ থেকে দিনক্ষণ জানতে পারবেন। আপনি আপনার পছন্দের লটটির সর্বোচ্চ দরদাতা হলে এবং আপনার দেওয়া দর প্রথম নিলামে পছন্দের গাড়িটির সংরক্ষিত মূল্যের (সাধারণত ডিউটি পেইড ভ্যালু) ৬০% হলে, দ্বিতীয় নিলামের দর প্রথম নিলাম থেকে বেশি হলে, তৃতীয় নিলামে যা-ই দর উঠুক ওই মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হবে। কারণ বলাবাহুল্য, নিলামের উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় বা বৃদ্ধি নয়, বরং পোর্টের গুদাম বা জায়গা খালি করা।’

কাস্টম হাউজের পক্ষে নিলামের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কেএম কর্পোরেশন।

কেএম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. মোর্শেদুল আলম বলেন, ‘নিলামে অংশগ্রহণকারীরা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের দপ্তর এবং যুগ্ম কমিশনার (সদর), শুল্ক আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেটের (ঢাকা দক্ষিণ) কার্যালয়ে নির্ধারিত টেন্ডার বক্সে টেন্ডার জমা দিতে পারেন। এরপর নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের নিলাম শাখা এবং ঢাকা ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে একযোগে টেন্ডার বক্স খোলা হবে।’

মোর্শেদুল আলম পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে অংশ নিয়ে অনেকে ঠকে যান। অনেকে নিলাম ডেকেও মাল খালাস নেন না। তাই বুঝেশুনে লটের নিলাম ডাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বা কারো কথায় পড়ে নিলামে দর দিয়ে ঠকবেন না বা পছন্দের জিনিসটা হারাবেন না। অবশ্যই গাড়ি বা পণ্যটি নিজে দেখবেন। গুণগত মান বিচার করবেন। বাজারদর আন্দাজ করবেন। আপনি যে নিলামে গাড়িটি বিড করছেন, সেটি ওই গাড়ির প্রথম নিলাম না হলে আগের নিলামে এর দর কখন ও কতো পড়েছে খোঁজ নেবেন।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm