নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রথম টেস্ট জয়

0

স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হলো, ইতিহাস ধরা দিলো হাতে। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন, উপমহাদেশের বড় বড় দলগুলো যেখানে নাকানি-চুবানি খায়। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এর আগে কোনো ফরম্যাটেই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেই আক্ষেপ ঘুচলো ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাট দিয়েই।

মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ের বে ওভালে সিরিজের প্রথম টেস্টে দাপট দেখিয়ে খেলে ৮ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যে কোনো ফরম্যাটে প্রথম জয় টাইগারদের। ঘরের মাঠে টানা ১৭ টেস্ট অপরাজিত থাকার পর হারের মুখ দেখলো কিউইরা।

এই জয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও পেলো প্রথম পয়েন্টের দেখা।

চতুর্থ দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৪৭ রান নিয়ে দিন শেষ করে নিউজিল্যান্ড। লিড ছিল মাত্র ১৭ রানের।

শেষ ৫ উইকেট হাতে নিয়ে আর কতদূর যাওয়া সম্ভব! বাংলাদেশের বোলাররা আলাদা কিছু ভাবার সুযোগই দেননি কিউইদের। একমাত্র ভরসা হয়ে ছিলেন ৩৭ রানে অপরাজিত রস টেলর। বর্ষীয়ান এই ব্যাটার দিনের দ্বিতীয় ওভারেই এবাদত হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে ৪০ করে ফিরে গেলে ম্যাচ বাঁচানোর আশা শেষ হয়ে যায় স্বাগতিকদের।

তাসকিন-এবাদতদের তোপে পরের ব্যাটাররা কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। ১৬৯ রানে থামে কিউইদের দ্বিতীয় ইনিংস। এবাদত ৪৬ রানে একাই নেন ৬ উইকেট। ৩৬ রানে ৩টি শিকার তাসকিনের।

বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪০ রানের। শুরুতেই সাদমান ইসলাম (৩) ফিরে গেলেও মুমিনুল হক আর নাজমুল হাসান শান্তর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের কাছাকাছি চলে আসে টাইগাররা। ৪১ বলে গুরুত্বপূর্ণ ১৭ রান করে শান্ত যখন ফিরছেন, জয়ের জন্য মাত্র ৬ রান দরকার বাংলাদেশের।

৪৪ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থেকে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছেড়েছেন নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মুমিনুল হক। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম।

ইতিহাসগড়া এই টেস্টে প্রথম ইনিংসে ডেভন কনওয়ের ১২২ রান সত্ত্বেও ৩২৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। জবাবে মুমিনুল হকের ৮৮ আর লিটন দাসের ৮৬ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৫৮ রানের সংগ্রহ গড়েছিল টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ওই প্রথম ইনিংসটাই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে দুই দলের।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm