যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা ভিত্তিক সংস্থা—নাসা আয়োজিত আন্তর্জাতিক স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জ ২০২৫ এর বৈশ্বিক পর্যায়ে চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) দল ‘এক্সভিশোনারিজ’।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) নাসার এই প্রতিযোগিতার বৈশ্বিক পর্যায়ে চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
চুয়েট থেকে নির্বাচিত দল এক্সভিশোনারিজের সদস্যবৃন্দ চুয়েটের এন্ড্রোমিডা স্পেস অ্যান্ড রোবোটিকস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (এসরো) সদস্য। তারা হলেন—জান্নাতুল নাঈম ইসমি (টিম লিডার ও ভিডিও এডিটর), শাওলী বোস (রিসার্চার), প্রিয়া দেব (রিসার্চার), মো. হাবিবুল্লাহ গালিব (UI/UX ডিজাইনার), এবং আসিফ হাসান (ওয়েব ডেভেলপার)।
জানা গেছে, গত ৬ ও ৭ অক্টোবর প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্যায়ের মূল্যায়ন পর্ব সম্পন্ন হয় যেখানে প্রায় ১১ হাজার ৫০০টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এরপর ৫ নভেম্বর ঘোষণা করা হয় প্রায় ১ হাজার ২৯০ দলের বৈশ্বিক পর্যায়ে মনোনয়নের তালিকা। সবশেষে বুধবার প্রকাশিত হয় বৈশ্বিক পর্যায়ে চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের তালিকা যেখানে সারাবিশ্ব থেকে মোট ৪৫টি দল জায়গা পায়।
বৈশ্বিকভাবে উত্তীর্ণ ৪৫টি দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে পেরে উক্ত দলের দলনেতা চুয়েটের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈম ইসমি বলেন, সত্যি বলতে আমার ভেতরে এখন খুব মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। একদিকে ফাইনালিস্ট হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে চূড়ান্ত ফলাফলের দুশ্চিন্তা। আশা করি, ইনশা’আল্লাহ ভালো কিছুই হবে। দলের সদস্যদের আন্তরিকতা আর কঠোর পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে আর এই ব্যাপারটাই আলাদা এক ধরনের সন্তুষ্টি দিচ্ছে।
দলের আরেক সদস্য কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ হাসান প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, আমরা একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি, যেখানে আমরা শিশুদের মহাকাশের আবহাওয়া (Space Weather) সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করব। আমরা একটি গল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সামনে এনে উপস্থাপন করেছি। গল্পটি ব্যাখ্যা করবে ‘স্পেস ওয়েদার’ বা মহাকাশের আবহাওয়া কী এবং এটি কীভাবে বিভিন্ন মানুষের উপর ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। এই ওয়েব প্ল্যাটফর্মটি সৌর আবহাওয়া (Solar Weather) দেখার ওয়েবসাইট হিসেবেও কাজ করবে, যেখানে বাচ্চারা মহাকাশ সম্পর্কিত গেমস এবং কুইজ খেলতে পারবে, এবং আনন্দের সঙ্গে শেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
নাসার এই স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জ এবার ১০ম বারের মতো আয়োজিত হচ্ছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর চূড়ান্ত পর্যায়ে ১০টি দলকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বৈশ্বিক পর্যায়ে বিজয়ী দলগুলোর জন্য নাসার পক্ষ থেকে থাকছে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সদরদপ্তর ভ্রমণের সুযোগসহ আরও সম্মাননা। এছাড়াও জয়ী দলগুলো ২০২৬ সালের শুরুর দিকে একজন নাসা বিজ্ঞানীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ বা অনলাইনে আলোচনার সুযোগ পেতে পারবে এবং নিজেদের প্রকল্প উপস্থাপন করতে পারবে।
ডিজে




