নারী দিবসে চট্টগ্রামে ৩০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও তাদের পরিবারকে সম্মাননা

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শহরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করা ৩০০ জন প্লাস্টিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ওয়াইপিএসএ)-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে শনিবার (৮ মার্চ) নগরে এ কর্মসূচি আয়োজন করে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চারটি এলাকায় স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে মোট ৩০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী সেবা পান। তাদের মধ্যে ২৩০ জন নারী এবং বাকিরা তাদের পরিবারের সদস্য ও পুরুষ কর্মী।

ক্যাম্পগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিনিং, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী নারীরা হাইজিন ও মর্যাদা সুরক্ষা কিট গ্রহণ করেন এবং প্রজনন ও মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ব্যক্তিগত পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান। আয়োজকেরা জানান, অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত এসব শ্রমিক প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকলেও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা তাদের জন্য সচরাচর সহজলভ্য নয়।

অনুষ্ঠানে এই নারীদের ‘সম্মুখসারির পরিবেশ যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শহরের জলাশয়, ড্রেন ও উপকূলীয় অঞ্চলকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে আয়োজকেরা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী। তিনি বলেন, ‘জেন্ডার সমতাকে সমর্থন করার অর্থ হলো সেইসব নারীর সুস্বাস্থ্য ও মর্যাদায় বিনিয়োগ করা, যারা প্রতিদিন আমাদের পরিবেশ রক্ষা করেন। ইউএনডিপির এ ধরনের উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ওয়াইপিএসএ)-এর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান। তিনি একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ সরাসরি উপকারভোগীদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেয়। প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আমরা ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছি। এ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার জন্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই।’

প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার সৈয়দ মনজুরুল হক বলেন, ‘শুধু স্বীকৃতি নয়, এই কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের লক্ষ্য। স্বাস্থ্য বীমা এবং পিপিই ব্যবহার ও পেশাগত ঝুঁকি মোকাবিলাবিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা চাই পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা যেন নিজেদের কাজেও সুরক্ষিত থাকেন।’

আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘমেয়াদে ৬০০ জন নারীসহ মোট দুই হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলে নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ksrm