নাজিরপাড়ায় শ্বাসরোধে নববধূ হত্যা, স্বামীর স্বীকারোক্তি

0

বিয়ের দুই মাস পার হতে না হতেই কয়েকবার নির্যাতনের স্বীকার হওয়া নববধূ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী সোলায়মান হোসেন লিটন (২৯)। পারিবারিক কলহের জেরে হত্যার এই ঘটনা—স্বীকার করেছেন স্বামী। বিয়ের পর থেকেই অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। টানাপোড়েনের সংসারে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সফিউদ্দিনের আদালতে আসামি নিজের দোষ স্বীকার করে এসব কথা বলেন। তবে শারমিনের মায়ের অভিযোগ, যৌতুকের কারণেই তার মেয়েকে মারধর করতেন লিটন।

সোমবার (৭ অক্টোবর) শারমিনকে হত্যার পর গ্রেপ্তার লিটন মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আসামি লিটন (২৯) পাঁচলাইশ থানার নাজিরপাড়া এলাকার মানিক ভিলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। আর খুনের শিকার স্ত্রী শারমিন (১৯) কোরিয়ান ইপিজেডের একটি কারখানার হিসাব বিভাগে চাকরি করতেন।

নিহত শারমিনের মা চেমন আরা বেগম জানান, সামাজিকভাবে মাত্র দুই মাস আগে নোয়াখালীর উত্তর শুল্লিকা এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে লিটনের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ফার্নিচারসহ অন্যান্য মালামাল দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে শারমিনের উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে লিটন। গত দুই মাসে অন্তত তিনবার শারমিনকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে শালিসও হয়েছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শারমিনের স্বামী লিটন শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানান, শারমিন অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে শারমিনের মা-ভাবী মামারা গিয়ে দেখেন শারমিনের লাশ পড়ে আছে হাসপাতালে।

শারমিনের মা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে নির্যাতন চালিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া বলেন, গ্রেপ্তারের পর সোলায়মান আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে শারমিনকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। লিটনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সোলায়মানে দাবির। তবে শারমিনের মা চেমন আরা বেগমের অভিযোগ, যৌতুকের কারণে তার মেয়েকে মারধর করতেন লিটন।

‘শারমিন যে চাকরি করতো সেই বেতনের সব টাকা লিটনকে দিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিত লিটন। শারমিন টাকা দিতে না চাওয়ায় গত দুই মাসে কয়েক দফা মারধরের শিকারও হয়’— জানিয়েছে লিটনের এক বন্ধু।

লিটনের ওই বন্ধু জানান, ‘বিয়ের পর তার সংসারে অভাব বেড়ে যায়। তার আয় তেমন বেশি ছিল না। যে কারণে সে তার স্ত্রীর কাছ থেকে তার বেতনের টাকা চাইতো। পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে লিটন টেনশনে থাকত। গত কয়েক মাসে তাদের কয়েকবার ঝগড়াঝাটি হয়েছে। তবে তা আবার সমাধান হয়ে যেত।’

আদালতে দেওয়া লিটনের জবানবন্দির সূত্রে ওসি পাঁচলাইশ জানান, প্রায় ৩ মাস আগে পারিবারিকভাবে শারমিন আক্তার মিতুর সাথে লিটনের বিয়ে হয়। গত তিন মাসে নববিবাহিত দম্পতির চলছিল টানাপোড়েনের সংসার। লিটন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায় সময় শারীরিকভাবে শারমিনকে নির্যাতন করত। ঘর ভাড়া পরিশোধসহ সাংসারিক ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত।

গত রোববার সন্ধ্যা ছয়টার সময় লিটন হঠাৎ বাসায় এসে শারমিনকে ঘরে না পেয়ে ফোন দিলে শারমিন ছাদের ওপর থেকে বাসায় আসার সাথে সাথেই দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। লিটন প্রথমে শারমিনকে চড় -থাপ্পড় দেয়।একপর্যায়ে লিটন শারমিনের পরিহিত ওড়না তার গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে ফেলে।

এ ঘটনায় নিহত শারমিনের মা চেমন আরা বেগম বাদি হয়ে মামলা করলে পুলিশ লিটনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিটন তার স্ত্রীকে ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে। পাঁচলাইশ থানার এসআই কাজী মাসুদ বলেন, নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

এইচটি/সিপি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন