নাচ-গান-কবিতায় নজরুল একাডেমির বর্ষপূর্তি উদযাপন

শিশুদের কণ্ঠে কবিতা, সুরে গান আর পায়ে নাচ—সব মিলিয়ে শিল্পকলার মঞ্চ যেন হয়ে উঠেছিল সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত উৎসব।

‘শিশুদের মেধা ও মননশীলতা বিকাশে একধাপ এগিয়ে’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে কবি নজরুল একাডেমি চট্টগ্রাম উদযাপন করল ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ আয়োজন উৎসর্গ করা হয় প্রয়াত কবি ও সাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়ার স্মৃতির প্রতি।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

২০০৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা কবি নজরুল একাডেমি চট্টগ্রাম দীর্ঘ ১৮ বছরে শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যচর্চায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

কারিশমা কবীর ঐশী, প্রিয়ম দাশ ও স্নিগ্ধা বড়ুয়ার সাবলীল সঞ্চালনায়, হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্বপ্নীল বড়ুয়া ডানার তত্ত্বাবধানে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির পরিচালক ও আবৃত্তিশিল্পী জেবুন নাহার শারমিন।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি চট্টগ্রাম রেঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির, বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জ পারভেজ আলী ও ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. ফরহাদ মঞ্জুর।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফোরকান রাসেলসহ বক্তারা প্রয়াত কবি সুকুমার বড়ুয়ার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁর মানবিক ও সৃজনশীল চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীদের পরিবেশনা। আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যের নান্দনিক পরিবেশনায় দর্শকরা মুগ্ধ হন। বিশেষভাবে আলোচিত হয় আবৃত্তি প্রশিক্ষক জেবুন নাহার শারমিন, কারিশমা কবীর ঐশী, প্রিয়ম দাশ ও স্নিগ্ধা বড়ুয়ার সম্মিলিত পরিবেশনা ‘শিকল ভাঙার গান’। সংগীত পরিবেশন করেন তনুশ্রী দাশ ও সোমা শীল। রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে গান ও কবিতার কোলাজ ‘ভালোবাসায় রবীন্দ্রনাথ’ পরিবেশন করেন স্বপ্নীল বড়ুয়া ডানা। গিটারের ছয় তারে সুর তোলেন প্রশিক্ষক আওয়াল খান শাহীন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একাডেমির নির্বাহী প্রধান মো. নুরনবী, অ্যাডমিন অফিসার মেহেরুন নিগার বাধন ও আইটি অফিসার মিরাজের উপস্থিতিতে কেক কেটে ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

ksrm