বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ১৫ দিন আগে রাবার বাগানে শ্রমিকের কাজ নিয়েছিলেন ৬ রোহিঙ্গা নাগরিক। অপহরণকারীরা তাদের জিম্মি করে পাশের ফাঁসিয়াখালীর গহীন জঙ্গলে। তাদের মুক্তির বিনিময়ে পরিবারের কাছে প্রথমে ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায়।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে অপহৃতদের পরিবারের কাছে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও দরকষাকষির পর অপহরণকারীরা টাকার অঙ্ক অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।
গত শুক্রবার রাতে আলিক্ষ্যং রাবার বাগান থেকে অপহৃত হওয়ার পর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও হদিস মেলেনি এই ৬ শ্রমিকের। উখিয়ার মধুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসা এই শ্রমিকদের মধ্যে একই পরিবারের তিন ভাই রয়েছেন।
অপহৃত তিন ভাই হলেন—মো. জমির উদ্দিন (৪০), মো. ইসহাক (৩৭) ও মো. জাকারিয়া (৩০)। অন্যরা হলেন—মো. মুবিন (২৪), মো. ইয়াছিন (২৭) এবং মোহাম্মদ নুর।
পুলিশ জানায়, উখিয়ার ক্যাম্প থেকে এসে গত দুই সপ্তাহ ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন বাগানে দিনমজুরের কাজ করছিলেন তারা। সর্বশেষ গত শুক্রবার স্থানীয় কাওছারের রাবার বাগানে যোগ দেন। সেখানে মাত্র প্রথম দিনের কাজ শেষ করে রাতে যখন তারা বাগানের স্টাফ বাসায় বিশ্রামে ছিলেন, ঠিক তখনই সাড়ে ৯টার দিকে একদল অপহরণকারী তাদের তুলে নিয়ে যায়।
কাগজিখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মামুন পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্রে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। প্রথমে ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হলেও বর্তমানে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছি। অপরাধীরা অপহৃতদের নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি সীমানা পার করে পাশের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম ও গহীন বনে জিম্মি করে রেখেছে।
তিনি আরও জানান, অপহৃতদের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ না হলেও বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে তাদের ট্র্যাক করার চেষ্টা চলছে। তাদের অক্ষত ও নিরাপদে উদ্ধার করতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ডিজে




