নতুন বোতলে পুরনো বিষ/ ই-কমার্সের ছদ্মবেশে চট্টগ্রামজুড়ে আবার এমএলএম প্রতারণা

‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইডের' ফাঁদে হাজারো তরুণ-তরুণী

চট্টগ্রামজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে নিষিদ্ধ এমএলএম ব্যবসা। ব্যবসার পুরো ধরন কথিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) হলেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ই-কমার্স পদ্ধতিকে। ই-কমার্স ও ডাইরেক্ট মার্কেটিংয়ের আড়ালে পিরামিড আকৃতির এই এমএলএম ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে ডেসটিনি-২০০০ গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

এমএলএম ব্যবসায় প্রতারণা নতুন কিছু নয়। কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে একশ্রেণীর তরুণ-তরুণী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। এদের মধ্যে রয়েছে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড, ইউনিপে টু ইউ, স্পিক এশিয়া, যুবক হাউজিং, সেলফ এমপ্লয়মেন্ট, ভিসাসহ আরো নানা প্রতিষ্ঠান। ডেসটিনির পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা এখনও চলছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেই ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এমএলএমের ধরনের এই পণ্যগুলোই মূলত গছানো হচ্ছে গ্রাহক সদস্যদের
এমএলএমের ধরনের এই পণ্যগুলোই মূলত গছানো হচ্ছে গ্রাহক সদস্যদের

ডেসটিনির পলাতকরাই এনেক্সের পেছনে
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারণা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের দায়ে সরকার কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া এমএলএম কোম্পানি ‘ডেসটিনি-২০০০ লি:‘এর কথিত ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভরাই ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ নামের প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। ২০১২ সালে ডেসটিনির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলাকালে এদের প্রায় সবাই গ্রেপ্তারের ভয়ে দেশের বাইরে পলাতক ছিলেন। আবার কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

সুযোগ বুঝে এরাই এখন ই-কমার্স পদ্ধতির নামে নতুন কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে আটকে রেখেছেন শত শত তরুণ-তরুণীকে। আর চট্টগ্রামে হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর এসব গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নাম।

এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছেন রাজিব মিত্র, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুলফিকার আলী, পরিচালক ফিরোজ আলম, পরিচালক মোহাম্মদ রহমান খান ও পরিচালক ইউনুস আলী। এরা সবাই ‘ডেসটিনি-২০০০’এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেউ ছিলেন কথিত ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ, কেউবা ছিলেন পিএসডি (প্রফিট শেয়ার ডিস্ট্রিবিউটর)। এদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে ডেসটিনি গ্রাহকদের কয়েকশত অভিযোগ রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার। এর মধ্যে ফিরোজ আলম চার হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থপাচার) অভিযোগে ডেসটিনির বিরুদ্ধে দাখিল করা পৃথক দু’টি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

ডেসটিনির ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনেক্স ওয়াল্ডওয়াইডের প্রেসিডেন্ট রাজিব মিত্র
ডেসটিনির ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনেক্স ওয়াল্ডওয়াইডের প্রেসিডেন্ট রাজিব মিত্র

নাটের গুরু রাজিব মিত্র
চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ই-কমার্স ও ডাইরেক্ট মার্কেটিংয়ের আড়ালে এমএলএম-এর পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছেন ডেসটিনির আলোচিত ‘ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ’ সেই রাজিব মিত্র। ডেসটিনির বিরুদ্ধে সারা দেশে অভিযান শুরুর পর তিনি ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড ডিস্ট্র্রিবিউটর (বিনিয়োগ) ফোরাম নামের একটি সংগঠন গড়ে তুলে ডেসটিনির পক্ষে মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন। ২০১২ সালে এমএলএমের নামে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ডেসটিনির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান শুরু হলে ডেসটিনি চট্টগ্রামের ‘সমন্বয়ক’ রাজিব মিত্র আত্নগোপনে চলে যান। কিন্তু ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছিরের পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আবার মাঠে সক্রিয় হন তিনি। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুরু হয় নতুন নামে আবার শুরু হয় রাজিব মিত্রের নতুন এমএলএম ব্যবসা। নতুন নাম ধারণ করা হয় এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেড। শুরু থেকেই গ্রাহকদের তারা বলছেন, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধনই তাদেরকে দেওয়া সরকার প্রদত্ত লাইসেন্স।

চট্টগ্রামের ভিআইপি টাওয়ারে এনেক্স ওয়াল্ডওয়াইডের কথিত শোরুম
চট্টগ্রামের ভিআইপি টাওয়ারে এনেক্স ওয়াল্ডওয়াইডের কথিত শোরুম

ব্যবসা চলছে সিটি মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে
জানা যায়, ২০১৭ সালে জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার ভিআইপি টাওয়ারের চতুর্থ তলায় ই-কমার্স ও ডাইরেক্ট মার্কেটিংয়ের আড়ালে গড়ে তোলা এমএলএম প্রতিষ্ঠান ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেডের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এর সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নাম ভাঙ্গিয়ে এই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে অভিযোগ করেছেন ডেসটিনি-২০০০, ইউনিপে টু ইউ ও স্পিক এশিয়ার মতো প্রতারক প্রতিষ্ঠানের কাছে সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগীরা। ২০১৭ সাল থেকে অনেকটা নিরবে চট্টগ্রাম অফিসের যাত্রা শুরু করার পর বর্তমানে তাদের সদস্য সংখ্যা হাজারখানেক বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা।

জানা যায়, চার হাজার স্কয়ার ফিট আয়তনের ওই অফিসে কিছু নির্দিষ্ট হাতেগোনা ভোগ্যপণ্য ও ২-৩ আইটেমের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আর পাঁচটি প্রফেশনাল কোর্স অফার দিয়ে চলছে এই ব্যবসা। দেশ-বিদেশের ১৮টি নামিদামি কোম্পানির পণ্য ফলাওভাবে প্রচার করলেও তারা মূলত অখ্যাত কিছু প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের পণ্যই নিজেদের নিবন্ধিত গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। প্রায়ই তারা আমাজন, ই-বেসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করে থাকেন।

ই-কমার্স ব্যবসা পদ্ধতিতে হয় যেভাবে
ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা হয় মূলত প্রোডাক্টভিত্তিক। পণ্য বেচাকেনার ওপর আয়। কোনো গ্রাহক পণ্যমূল্যের ওপর ছাড় পেলেও পরবর্তীতে তার অতিরিক্ত আয় হওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া ওই গ্রাহককে কেউ পণ্যটি নিতে উৎসাহিত করলেও তার কোন পরবর্তীতে আয় করার কোনো সুযোগ নেই। ই-কমার্সে সবকিছুই সরাসরি। আশপাশের কেউ পণ্য কেনাবেচার লাভের অংশ পায় না।

পণ্যমূল্য পাঁচ গুণেরও বেশি
এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেডের পেমেন্ট পদ্ধতিটা হচ্ছে ‘বাইনারি’। অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে এনেক্স থেকে নির্দিষ্ট পণ্য কিনে একজন আইবিও সদস্য হতে মেম্বারশিপ ছাড়া আর অন্য কোনো সুবিধা নেই। তবে সদস্য হওয়ার পর তার বাম লাইনে একজন, ডান বামে একজনকে এভাবে আইবিও সদস্য করাতে পারলে প্যাকেজ ১৫ হাজার টাকায় মূল গ্রাহক পাবেন ১৫ পয়েন্ট—৩০০০ টাকা। আবার বাম-ডান ম্যাচিং হলে পাবেন ১৫০০ টাকা। যিনি মেম্বারশিপ করিয়েছেন ওই প্যাকেজ থেকে তার ওপরের অর্থাৎ আপলাইনে আরো পাঁচজন পাবেন দেড় হাজার করে মোট সাড়ে সাত হাজার টাকা। এভাবে বিক্রিত পণ্যের তিন স্তরে কমিশন দেওয়া হয় মোট সাড়ে চার হাজার টাকা। এছাড়া আপলাইনের ৫ আইবিওর কমিশন সাড়ে সাত হাজার টাকা বিয়োগ হলে ৬০০ টাকার ওই বিক্রিত পণ্যের বাজারমূল্য দাঁড়ায় তিন হাজার টাকা। এক হিসেবে ওই ১৫ হাজার টাকার প্যাকেজের পণ্য বাজারমূল্যের চেয়ে পাঁচগুণেরও বেশি রেখে বিক্রি করা হয় এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইডে।

৭০০০ টাকায় পিরামিড শেখানোর কোর্স
‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ নামের প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা ছাড়া ফ্রি রেজিস্ট্রেশন, টাকা ছাড়া ব্যবসা করা, দেশের বিভিন্ন নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের পণ্য দিয়ে স্পন্সরশিপের নামে প্রচার চালাতে থাকে। দেশ-বিদেশের নামি-দামি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করে প্রচারসহ নামমাত্র কোর্স করিয়ে তাদের কাছে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এসব পণ্যগুলো থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত পাঁচ গুণ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের এসব পণ্যে—জানালেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, শুরুতে ‘এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এর ফ্রি মেম্বারশিপ (আইবিও) নিতে করতে হয় ‘কোর্স’। পাঁচ ধরনের কোর্স বাবদ আদায় করা হয় ৫৫০০, ৫৬০০, ৬০০০, ৬৫০০ ও ৭০০০ টাকা। কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পোকেন ইংলিশ, কম্পিউটার, বিউটি পার্লার কোর্স, ডিজিটাল মার্কেটিং ও কুরআন শিক্ষার কোর্স। নামে প্রশিক্ষণ হলেও প্রায় পুরোটা সময় শিক্ষার্থীদের এমএলএমের কলাকৌশল ও অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের পণ্য কেনায় প্রলুব্ধ করতে ব্যয় করেন কথিত প্রশিক্ষকরা। অল্প বিনিয়োগে বেশি টাকা আয়, অন্য গ্রাহককে ‘মোটিভেট’ করা আর বেশি গ্রাহককে এমএলএমে সম্পৃক্ত করার কৌশল শেখানোতেই সময় পার করে দেওয়া হয় প্রশিক্ষণ ক্লাসগুলোতে।

নামেই ই-কমার্স, চলছে মূলত এমএলএম
একাধিক ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, নামেই ই-কমার্স ব্যবসা, চলছে মূলত এমএলএম ব্যবসাই। আয়েরও আবার নানান ধরন—ডান-বাম আর ম্যাচিং পদ্ধতি, আছে সম্পূর্ণ ‘বাইনারি’ পদ্ধতিও। ফ্রি মেম্বারশিপের কথা বলে ‘ইনকাম’ করতে হলে টাকার বিনিময়ে ‘অফার’ গ্রহণ করতে হয়, নইলে আবার ‘ইনকাম’ করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া কাস্টমার কেয়ারে পরিচিত কোম্পানির অল্প কিছু নির্দিষ্ট পণ্য সাজিয়ে গ্রাহকদের প্ররোচিত করা হয়, কিন্তু বাস্তবে এসব পণ্যের বিকিকিনি হয় না বললেই চলে।

পটিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের ইংরেজি কোর্সের শিক্ষক মো. ইয়াকুব জানান, ‘আমি গত মাসে আমার বন্ধুর মাধ্যমে এনেক্সে যাই। সেখানে প্রথমে মেম্বারশিপ হওয়ার পর সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিসনেজ ওনার (আইবিও) হই। বলা হয়েছে কোর্সগুলো স্কিল ডেভেলপ করবে। কিন্তু উন্নতি তো দূরের, মূল বিষয়ে আসলে কোন কিছুই শেখানো হয় না। লোকদেখানো কোর্সের নামে গ্রাহকদের এমএলএম ব্যবসায় প্ররোচিত করছে প্রতিষ্ঠানটি।’

কর্তারা যা বললেন
রাজিব মিত্রের ছোট ভাই রবিন মিত্র এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেডের চট্টগ্রাম কাস্টমার কেয়ারের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে তিনি বলেন, এটি অনলাইন ব্যবসা। পণ্য অর্ডার দিলে ডেলিভারি দেওয়া হয়। এছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্রি মেম্বারশিপ নিয়ে বা কোর্স আইবিও হয়ে ‘ইনকাম’ করতে পারবেন। গ্রাহকদের ‘তিন ধাপের ইনকাম’ করার সুযোগ-সুবিধার কথা তিনি জানান।

ই-কমার্স ব্যবসা পেমেন্ট পদ্ধতি ‘ডাইরেক্ট’ পরিশোধ আর এমএলএম ব্যবসা পদ্ধতি হচ্ছে ‘বাইনারি’—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোন গ্রাহক যদি অতিরিক্ত ইনকাম চায় তাতে দোষের কিছু নেই।’

এ ব্যাপরে এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট রাজিব মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাজিব তালুকদারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এনেক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার (জিএম) রাজিব তালুকদার আগে ডেস্টিনি-২০০০ এর ডায়মন্ড এক্সকিউটিভ ও ডেস্টিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু রাজিব মিত্রের যোগাযোগের পর থেকে সারাদিন তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

ঢাকায় অভিযান, চট্টগ্রামে পুলিশ কিছু জানে না
ই-কমার্সের আড়ালে ২০১৬ সাল থেকে অবৈধভাবে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা করে আসছিল নোভেরা প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি। ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি বিগত তিন বছরে বিনিয়োগ নেওয়ার নামে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ৪৩ কোটি ৫২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ টাকা। গত এপ্রিলে পুরো চক্রটিকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আসামিরা ২০১৬ সাল থেকে নোভেরা প্রোডাক্টস লি. নামে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ই-কমার্স ও ডাইরেক্ট মার্কেটিংয়ের আড়ালে পিরামিড আকৃতির এমএলএম ব্যবসার কথা জানিয়েছে। এই ব্যবসার মাধ্যমে অধিক লাভ এবং উচ্চ আয়ের কথা বলে হাজার হাজার লোকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছে। আসামিরা কারাগারে রয়েছে। প্রতারণায় জড়িত বাকিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কয়েকটি সূত্রে যোগাযোগ করে জানা যায়, এমএলএম ব্যবসার বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে কিছু গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনলাইন আর অফলাইনে দুইভাবেই প্রতারণা করা হচ্ছে—একথা জানিয়ে উর্ধতন একজন কর্মকর্তা জানান, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ই-কমার্স-এমএলএম ব্যবসায় প্রতারিত হয়ে এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!