s alam cement
আক্রান্ত
৩২৫৭৮
সুস্থ
৩০৪৬৫
মৃত্যু
৩৬৭

নতুন গল্পে ‘এএসপি’ ছাত্রলীগ নেতার উল্টো মামলায় গ্রেপ্তার গৃহবধূ কারাগারে

0

‘এএসপি’ পরিচয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার ঘটনায় যে নারীর মামলায় আটক হয়েছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকিবুল ইসলাম আকিব, জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে উল্টো এবার সেই নারীর বিরুদ্ধেই ‘প্রতারণা’র মামলা দায়ের করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার পুলিশ বিস্ময়কর দ্রুতগতিতে সেই নারীকে গ্রেপ্তারও করেছে। এই ঘটনায় অনেকে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত আকিবের সঙ্গে চকবাজার থানার পুলিশের গোপন যোগসাজশের অভিযোগ আনছেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া এলাকা থেকে আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ পূর্ব বারখাইনের শামীমা আকতার মুক্তা (৩২) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে চকবাজার থানা পুলিশ। ওই নারী দুই সন্তানের জননী। তার বিরুদ্ধে কয়েক মাস আগে জামিনে বেরিয়ে আসা ছাত্রলীগ নেতা আকিবুল ইসলাম আকিব ‘ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা’র অভিযোগ এনেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের আদালতে জামিন আবেদন করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয় শামীমা আক্তার মুক্তাকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চকবাজার থানার এসআই রাজীব পাল।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধর্ষণ ও প্রতারণা এবং ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে নগ্ন ছবি পোস্ট করার অভিযোগ এসে আকিবুল ইসলাম আকিব, নাজমা আকতার ও ওয়াহেদুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আইসিটি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন শামীমা আক্তার মুক্তা। এই মামলায় গত ৬ জানুয়ারি নগরীর রাহাত্তারপুল থেকে আকিবকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

Din Mohammed Convention Hall

এরপর ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে বিভিন্ন সময় তরুণীদের নগ্ন ছবি পোস্ট করতে সহায়তা করায় আকিবুল ইসলাম আকিবের ছোট বোন নাজমা আক্তারকেও চলতি বছরের ১ জুন আনোয়ারা উপজেলার উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ছাত্রলীগের এই নেতা বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী কমিশনার (এএসপি) পরিচয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে এক তালাকপ্রাপ্ত নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে নগরীর বাকলিয়া রাহাত্তারপুল এলাকার ওই দুই বাচ্চার মাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেন।

গৃহবধূর সঙ্গে ‘এএসপি’ ছাত্রলীগ নেতার সংসার
গৃহবধূ শামীমা আকতার মুক্তার দায়ের করা মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত আগস্ট থেকে নগরীর বিভিন্ন হোটেল-বাসায় স্বামী স্ত্রী হয়ে আকিবুল ইসলাম আকিবের সঙ্গে সংসার পাতেন তিনি। এক সময়ে তারা নগরীর বাকলিয়া থানার ডিটি রোডের হোসেন বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় বাসাও ভাড়া নেন। মাসতিনেক প্রতারণার মুখোশ পরে আকিবুল ইসলাম ওরফে তাহসান খান ঘর সংসার করলেও আস্তে আস্তে উন্মোচিত হতে থাকে তার মুখোশ।

‘এএসপি’ পরিচয় দিয়ে তালাকপ্রাপ্ত দুই সন্তানের জননীকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বিয়ে করলেও দিন দিন নানা অজুহাতে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতা আকিব। এরপরও নিজের সুখের কথা ভেবে আগের স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহরের পাওনা টাকা থেকে দুহাত ভরেই দিতে থাকেন সব অর্থকড়ি। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ওই নারীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নেন আকিব। ২৭ অক্টোবর এক লাখ ২৮ হাজার টাকা দিয়ে তাকে একটি মোবাইল ও তিন লাখ টাকা দিয়ে একটি মোটর সাইকেলও কিনে দেন ওই নারী। বিভিন্ন সময় ডেবিট কার্ড দিয়ে তুলে নেন আরও চার লাখ টাকা। এভাবে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা তাহসান তার কাছ থেকে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওই নারীর।

এভাবে বারবার টাকা চাইতে থাকলে ওই নারীর সন্দেহ হয়। ওই নারী একদিন তাহসানের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখেন, বিভিন্ন নামে ফেসবুক আইডি খুলে আরও বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছে আকিব। নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে সেটা ভিডিও করে আবার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে টাকা দাবি করার তথ্যও পান মোবাইলে। এভাবে নানা অসঙ্গতি চোখে পড়তে থাকলে ওই নারী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার নাম তাহসান নয়, আসল নাম আকিবুল ইসলাম আকিব। তার এএসপি পরিচয়ও ভুয়া।

অবশেষে একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, টাকা আত্মসাৎ করার কারণে মামলার আসামি করা হয় দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকিবুল ইসলাম আকিবকে। গত ২৫ ডিসেম্বর আকিব ওই নারীর বাসায় গিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে হুমকি দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

জামিনে এসেই উল্টো মামলা
এদিকে জামিনে বেরিয়ে আসার পর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকিবুল ইসলাম আকিব একটি সিআর প্রতারণার মামলা দায়ের করেন গৃহবধূ শামীমা আকতার মুক্তার বিরুদ্ধেই।

সেই মামলার এজাহারে আকিবুল ইসলাম আকিব ‘অভিযোগ’ তোলেন, ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তাকে ফাঁদে ফেলে কৌশলে শামীমা আক্তার মুক্তা বিয়ে করতে বাধ্য করেন। তবে তিনি তখন আকিবের কাছে তার স্বামী ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করেন।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে মামলার বাদী আকিবুল হাসান আকিব বলেন, শামীমা আক্তার মুক্তার সঙ্গে আমার ফেসবুকে পরিচয় এবং পরে বন্ধুত্ব হয়। তখন সে আমাকে অবিবাহিত বলে এবং আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে একদিন সে আমাকে কৌশলে তার চকবাজারের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ৪/৫ জন লোকের উপস্থিতিতে বিয়ে করতে বাধ্য করেন এবং ১০ লাখ টাকা কাবিন দিতে বাধ্য করেন। বিয়ের পর আমি জানতে পারি তার স্বামী-সন্তান রয়েছে। বিষয়টি আমি তার কাছ থেকে জানতে চাইলে তখন সে আমাকে তালাক দিতে বলে অন্যথায় নারী নির্যাতন মামলা দেবে বলে আমাকে হুমকি-দমকি দিতে থাকে। পরে সে আমাকে মামলা দেয়। শামীমা আক্তার মুক্তা এর আগে আইয়ুব নামের এক ব্যবসায়ীকেও আমার মত প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। আইয়ুবের কাছ থেকে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে তালাক নেয় এবং কাবিনে টাকা আদায় করেন। শামীমা আক্তার মুক্তা প্রতারণার এসব ফাঁদ পাতেন তার প্রথম স্বামী লোকমান হোসেন শাহীনকে নিয়ে। তারা স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন প্রতারণার মামলাও রয়েছে বিভিন্ন থানায়।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm