নগর বিএনপির বিতর্কিত বর্ধিত সভায় নজিরবিহীন এজেন্ডা!

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির বর্তমান কমিটির সাড়ে তিন বছরের মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়া একমাত্র বর্ধিত সভা নিয়ে শুরু থেকেই দলের ভেতরে সমালোচনা, বিতর্ক ছিল। শেষও হলো বিতর্ক দিয়ে। নেতাদের অভিযোগ- বর্ধিত সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. শাহাদাত হোসেন বিষয়ক আলোচনা ছাড়া কোন এজেন্ডা রাখতে দেওয়া হয়নি। কথা বলতে দেওয়া হয়নি অনেক নেতাকে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে নগরীর কাজির দেউড়িস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওই বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন।

বর্ধিত সভায় দলের সাংগঠনিক বিষয় আলোচনা হওয়ার নিয়ম থাকলেও শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রিক আলোচনা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবের রহমান শামীম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমান চট্টগ্রাম নগর বিএনপির কমিটি নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে রেখেছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুসারে নির্বাচনের পর আমরা নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করবো। সামনে নির্বাচন তাই আমাদের আলোচনা নির্বাচন কেন্দ্রিক রেখেছি।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির বর্তমান কমিটি ২৭৫ জনের হলেও বর্ধিত সভায় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন না। তাদের একজন হালিশহর থানা বিএনপির আহবায়ক মোশাররফ হোসেন ডেপটি।

তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রামের বাহিরে ছিলাম। তাছাড়া মেয়র প্রার্থী নিয়ে আমাদের আপত্তি নাই। কিন্তু কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের হয়ে কাজ না করে নিস্ক্রিয় ছিলেন। অথচ তাকে আবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আমাদের দল থেকে। এই আপত্তি থাকায় আমরা বর্ধিত সভায় যাইনি। তবে পাহাড়তলী থানার প্রতিনিধিও বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন না।

নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন বলেন, বর্ধিত সভায় থানার নেতারা কথা বলতে পারলেও নগর নেতাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

সভায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের অবস্থা এখন খুবই করুন। তবে আওয়ামী লীগের মতো করুন অবস্থা বিএনপি’র নয়। তাদের মত ভীত সন্ত্রস্ত বিএনপি নয়। আওয়ামী লীগ এখন ভোটের ভয়ে আছে। তাদের ভয় বেগম খালেদা জিয়া ও জনগণকে। জনগণের প্রতি তাদের আস্থা নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে যে অন্যায় কাজ করাচ্ছে, তাদের সেই ভয়ও আছে। আওয়ামী লীগ সবসময় একটা আতঙ্কের মধ্যে আছে। আওয়ামী লীগের ভয়কে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তাই ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদেরকে নির্বাচনের দিন পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। যার যার কেন্দ্রে দায়িত্ব নিয়ে প্রার্থীদের জিতাতে হবে। সিনিয়র নেতারা প্রার্থীদের জিতাতে না পারলে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদেরকে সাহসিকতার সাথে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম বলেন, চসিক নির্বাচনে যারা জীবন বাজি রেখে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী করে আনবে, তাদের বিএনপির কমিটিতে মূল্যায়ন করা হবে। জনমত বিএনপির সঙ্গে আছে। তারাই আমাদের শক্তি। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, তাহলে বিজয় আমাদের হবেই।

কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। বিএনপি জনগণের সেই ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আর এর অংশ হিসেবেই নির্বাচনীযুদ্ধে আমরা নেমেছি। এই যুদ্ধে জনগণই আমাদের একমাত্র সঙ্গী।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে সরকার প্রতিহিংসার নগ্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমরা গণতন্ত্র ও নেত্রীর মুক্তি নিশ্চিত করতে রাজপথসহ সবখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।

বর্ধিত সভায় বিগত দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমের আলোকে তৈরি করা শুভঙ্করের ফাঁকির প্রতিবেদন পেশ করেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের জলুম নির্যাতনের মধ্যে আমরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ার ১ বছরের মাথায় দীর্ঘ ২১ বছর না হওয়া মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করেছি। ১৪টি থানা ও ৪৩টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেছি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশে আমরা ২টি মহাসমাবেশ, ২টি কর্মীসভা, ২টি প্রতিনিধি সভা করেছি। তাছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যতো বাধা আসুক আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকবো। প্রয়োজনে প্রতিবাদ করবো তারপরও নির্বাচনের মাঠ ছাড়বো না। সকল অন্যায় প্রতিহত করে জয় ছিনিয়ে আনবো।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক এসএম সাইফুল আলমগীরের পরিচালনায় বর্ধিত সভায় মৃত্যুবরণকারী নেতৃবৃন্দের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্মসম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এমএ আজিজ, মো. মিয়া ভোলা, শামসুল আলম, এডভোকেট আবদুস সাত্তার প্রমুখ।

এফএম/এসএ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!