নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ধোঁকা, অল্প বৃষ্টিতেই আইল্যান্ড ভেঙে চুরমার

0

চট্টগ্রাম মহানগরীতে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে প্রতারণা করছে ‘আরশি নগর’ নামের একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) একাধিক প্রকল্পে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করছে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। ফলে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের অধীনে নির্মাণ করা মিড-আইল্যান্ডগুলো ভেঙ্গে পড়ছে অল্প বৃষ্টিতেই। এর ফলে সৌন্দর্য্যের পরিবর্তে উল্টো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সুনাম।

জানা যায়, নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আলমাস সিনেমা হল থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসা মোড় পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছে চসিক। সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ‘আরশি নগর’। দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে চসিকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণ কাজে ‘আরশি নগর’ ব্যবহার করেছে নিম্নমানের ইট ও সিমেন্টের সাথে অতিরিক্ত বালি।

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় আলমাস সিনেমা হল থেকে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত রাস্তার মাঝখানে নির্মাণ করা মিডআইল্যান্ডগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মিডআইল্যান্ডগুলো সংস্কার করা হয়নি। এতে যানচলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তি, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সৌন্দর্যবর্ধন কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার করণে চসিকের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে এতে বিচলিত নয় ‘আরশি নগর।’ অভিযোগ রয়েছে, ইতিপূর্বে করা সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পগুলোরও কোন খোঁজখবর রাখে না এই প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘গাড়ি চলছে, মিডআইল্যান্ড ভাঙ্গবে। আবার ঠিক করবে। ‘আরশি নগর’ কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দেয়নি। ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে বিধায় মিডআইল্যান্ড নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে।’

সৌন্দর্যবর্ধন কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আরশি নগরের কর্মকর্তা সৈয়দ রকি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘নিম্নমানের কিছু নেই। সমস্যা হয়েছে বৃষ্টি নিয়ে। সৌন্দর্যবধন কাজের বিনিময়ে আমরা চসিকের কাজ থেকে কোন অর্থ নেই না। নিজেদের খরচে করে দেই। পাঁচ বছরের চুক্তি। পাঁচ বছর আমরা মেইনটেইন্যান্স করবো। মিডআইল্যান্ড ভেঙ্গে গেলে আবার ঠিক করবো। বৃষ্টির জন্য ঠিকমত কাজ করতে পারছি না।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিমের মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ‘আরশি নগর’ প্রতিষ্ঠানটি কোতোয়ালী মোড় থেকে ফিরিঙ্গিবাজার পর্যন্ত সৌন্দর্যবধন প্রকল্পের কাজটিও করেছে। যত্ন না নেওয়ার কারণে এ প্রকল্পের অধীনে লাগানো গাছগুলোর অধিকাংশই মরে গেছে অনেক আগে। যেগুলো আছে’ তাদের মধ্যে অধিকাংশই মৃতপ্রায়। লাইটও অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, আর লাগানো হয়নি।’

এ ব্যাপারে ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, ‘তারা বিজ্ঞাপননির্ভর। চাহিদা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন পায়নি ‘আরশি নগর।’ এ জন্য সকল খরচ তাদের গায়ে পড়ছে। তাই রক্ষণাবেক্ষণে একটু ধীরগতি। তবে যতটুকু পারছে করছে।’

এমএ/সিপি

Loading...
আরও পড়ুন