ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার অভিযোগে মাঠে নামল নির্বাচন কমিশন, অতি জরুরি চিঠি

কড়া অভিযোগ বিএনপির

নির্বাচন কমিশন থেকে জারি হওয়া এক ‘অতি জরুরি’ চিঠিতে ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দেশজুড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে সক্রিয় হতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীরা ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রচারণার হাতিয়ার বানাচ্ছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট সব আসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার অভিযোগে মাঠে নামল নির্বাচন কমিশন, অতি জরুরি চিঠি 1

কমিশনের নির্দেশনা

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জারি করা চিঠিতে বলা হয়, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের ডায়েরি নম্বর–৩৪৫৪ মূলে প্রাপ্ত অভিযোগ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পাঠানো হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

এই অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সব আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে। চিঠিতে সহকারী সচিব (শৃঙ্খলা) ও কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আল-মামুনের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়।

বিএনপির অভিযোগের সূত্র

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিএনপির একটি লিখিত অভিযোগ। গত ২৫ জানুয়ারি বিএনপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়ে জানায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে ভোট চাইছেন। এতে বলা হয়, এ ধরনের প্রচারণা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইনের ভাষায় এটি ‘অসংগত প্রভাব বিস্তার (Undue Influence)’ হিসেবে অপরাধের শামিল।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগ ব্যবহার করে সহজসরল ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অবাধ পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করছে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় দলটি।

বক্তব্যের প্রমাণ সংযুক্ত

বিএনপির অভিযোগপত্রে প্রমাণ হিসেবে জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবিরের বক্তব্যের কয়েকটি লিংক যুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিলে কবরে কী জবাব দেবেন? কবরে গিয়ে বলতে পারবেন আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিছি।’ আরেকটি সমাবেশের বক্তব্যে বলা হয়, ‘আপনারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে অন্তত কবরে গিয়ে আল্লাহকে বলতে পারবেন যে আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লা জয়লাভ করানো সবার ঈমানি দায়িত্ব।’

বিএনপির প্রতিক্রিয়া

ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও অবাধ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। গত ২৬ জানুয়ারি দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে ভোট চাইছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে—‘নিজের ঈমান রক্ষার জন্য ওই প্রতীকে ভোট দিতে হবে’, ‘জান ও মাল দিয়ে সেই প্রতীককে জয়ী করানো ঈমানি দায়িত্ব’। তিনি বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এই অপপ্রয়াস অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ‘অসৎ প্রভাব বিস্তার’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সিপি

ksrm