দোকান বসানো নিয়ে বিরোধ, চট্টগ্রামে বিএনপিকর্মীর ‘ধাক্কায়’ যুবদল নেতার মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে রিকশাভ্যানে দোকান বসাতে নিষেধ করায় ধাক্কা ও মারধরের শিকার হয়ে ফজল আমিন নামে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে নগরীর ওমর আলী মাতবর সড়কের এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. শাহজাহানসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত ফজল আমিন নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহজাহান বিএনপিকর্মী ও নগরের এক বিএনপি নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ওমর আলী মাতবর সড়কে রিকশাভ্যানে দোকান বসানো নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে একটি স্কুলের সামনে এ ধরনের দোকান না বসানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার আবার সেখানে ভ্যান নিয়ে দোকান বসানো হলে ফজল আমিন এর কারণ জানতে চান।

নিহতের ছেলে জোবায়ের হক ইনান বলেন, স্কুলের সামনে ভ্যান বসানোর কারণে শিক্ষার্থী ও গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। বাবা বিষয়টি জানতে চাইলে শাহজাহান ও তার ছেলে বুকে ধাক্কা দেন এবং মারধর করেন। বুকে ধাক্কার প্রায় ১০ মিনিট পর বাবা পড়ে যান।

ইনান আরও বলেন, বাবার আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ফজল আমিনের ময়নাতদন্ত করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শাহজাহানের বিরুদ্ধে সড়কে রিকশাভ্যানে দোকান বসানোর সুযোগ দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।

তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ) কাজী মো. বিধান আবিদ বলেন, ফজল আমিনকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় রিকশাভ্যান না বসাতে ফজল আমিন নিষেধ করেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে সেখানে চাঁদাবাজি হতো কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ফজল আমিন ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। রাস্তায় রিকশাভ্যান বসানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের কথা তিনি শুনেছেন।

শাহজাহানের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনগত ব্যবস্থার আওতায় আসছে কিনা, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

এএইচ/ডিজে

ksrm