চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি পরিত্যক্ত দোকান দখল করে সেখানে ‘বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়’ সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দোকানটি উদ্ধার হওয়ার পরও সেই চক্র পুনরায় দোকান দখলের চেষ্টা চালায়। একই সময় দোকান সংস্কারের কাজে থাকা ৫৮ বছর বয়সী রাজিয়া হোসেনকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয়, শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলাটি পটিয়া থানা জিআর মামলা নম্বর–৫৮/২৬। এতে পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৪২/৩৮৫/৪২৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।’
বাদী রাজিয়া হোসেন অভিযোগ করেন, পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের পেরলা এলাকার বাসিন্দা মো. সেকান্দর ও এনামুর রশিদ প্রকাশ নাসু তার দোকান সংস্কারের কাজে বাধা দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। গত ৭ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে মিস্ত্রি দিয়ে দোকানে লোহার গ্রিল ও শাটার লাগানোর সময় অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন। চাঁদা অস্বীকার করলে তারা নতুন লাগানো গ্রিল ভেঙে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন, রাজিয়াকে মারধর ও কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়।
ঘটনার সময় তার ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং প্রায় এক ভরি চার আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা দোকানের ভেতরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে মুক্তি পাওয়ার পর রাজিয়া হোসেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, পূর্বে তার স্বামীর পৈত্রিক দোকান ঘরটি স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্র জবরদখল করে সেখানে দলীয় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রেখেছিল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলে পুলিশ অভিযুক্তদের সাইনবোর্ড সরাতে বাধ্য করে। তবে এক মাসের ব্যবধানে দোকান সংস্কারের কাজ করতে গিয়ে পুনরায় হামলার শিকার হন রাজিয়া হোসেন।
বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মন্নান বলেন, ‘এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো কার্যালয় নয়। কারা সেখানে সাইনবোর্ড দিয়েছে তা আমরা জানি না।’
এডভোকেট ফোরকানুল ইসলাম জানান, ‘সাইনবোর্ডের ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলাম, তবে কার দোকান কে নিয়েছে তা আমি জানি না।’
অভিযুক্ত সেকান্দরও স্বীকার করেছেন, দোকানের কাজ তিনি করেছেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তবে সাইনবোর্ড সরানোর দেরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার ২নং আসামি এনামুর রশিদ প্রকাশ নাসুর বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে তিনি বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের ভয় দেখিয়ে বড় অংকের চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামায়াতের পক্ষ হয়ে একটা সাজানো মামলার বাদী তিনি। ওই মামলায় সাবেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও শীর্ষ আওয়ামী লীগের নেতাদের আসামি করে বিভিন্নজন থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন অনেকে। অভিযোগ ওঠার পর তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি এখন বিএনপির একটা গ্রুপের সাথে চলাফেরা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাজিয়া হোসেন জানিয়েছেন, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে এক মাস ধরে দোকান বন্ধ থাকায় সংসার চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রকৃত মালিককে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।




