দেশের অর্ধেক জ্বালানি বাজারের নিয়ন্ত্রণ চায় বসুন্ধরা, সিদ্ধান্ত দিতে বিপিসিকে দুই দিন সময়
এলপিজির মতো বাজারে অস্থিরতা তৈরির শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষকে কখনও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের মুখোমুখি হতে হয়নি। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা এই খাতেই এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল) দেশের প্রায় অর্ধেক পরিশোধিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি চেয়েছে সরকারের কাছে। আবেদনটি অনুমোদিত হলে দেশের জ্বালানি বাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে ভবিষ্যতে বাজারে প্রভাব বিস্তার, কৃত্রিম সংকট কিংবা মূল্য নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এলপিজি খাতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বেশি দাম দিয়ে জ্বালানি কিনতে হতে পারে। এরই মধ্যে আবেদনটি পর্যালোচনায় মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে মতামত দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
ঘটনার বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কিংবা বিপিসির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি, পরিবহন ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন।
জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে আনভীরের আবেদন
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি জ্বালানি নীতিমালার আওতায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল আমদানি এবং বিপণনের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল)।
গত ২৪ মে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে বিওজিসিএলকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি দেওয়া হোক।
চিঠিতে দাবি করা হয়, বসুন্ধরা অয়েল প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজস্ব রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে দেশে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, দেশের জ্বালানির চাহিদা প্রতিবছর ২ থেকে ৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালে দেশের মোট জ্বালানির চাহিদা প্রায় ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে, যার প্রায় পুরোটা আমদানিনির্ভর হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের।
বিপিসির তথ্য তুলে ধরে যুক্তি
আবেদনের সঙ্গে বিপিসির ২০২২-২৩ অর্থবছরের বিপণন তথ্যও যুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, ওই অর্থবছরে বিপিসি ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৭ মেট্রিক টন অকটেন, ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫৬ টন পেট্রোল, ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭০২ টন ফার্নেস অয়েল, ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টন জেট-১ এবং ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৩ টন ডিজেল বিক্রি করেছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৫৮ দশমিক ২১ শতাংশ যোগাযোগ খাতে, ১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে, ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ কৃষিতে, ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ শিল্পে, শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ গৃহস্থালীতে এবং ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, দেশে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিদিনই জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে।
চিঠিতে বলা হয়, বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে বছরে ২২ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতার একটি রিফাইনারি স্থাপন করেছে বসুন্ধরা অয়েল। সেখানে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, বিটুমিনসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্লান্টে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সংরক্ষণাগার রয়েছে। বর্তমানে উৎপাদিত ফার্নেস অয়েল ও বিটুমিন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০২৪ সালের ১০ জুন বসুন্ধরা অয়েল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতিসহ ৩৮৮টি ফিলিং স্টেশন স্থাপন এবং এলপিজি ও অটোগ্যাস স্টেশনকে ফুয়েল স্টেশনে রূপান্তরের অনুমতি পেয়েছে।
এবার যা চাওয়া হলো
সর্বশেষ আবেদনে বছরে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল, ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং ৮ থেকে ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি, বিক্রয় ও বিপণনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এই পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমতি মিললে দেশের মোট জ্বালানি বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
বিপিসির সঙ্গে হয়নি কোনো চুক্তি
বসুন্ধরা অয়েলের আবেদনের পর বিপিসির ভেতরেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, হাসিনা সরকারের আমলের শেষ দিকে মন্ত্রণালয় থেকে বসুন্ধরা অয়েলকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, পরিশোধন ও বিপণনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিভাবে তারা আমদানি ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা চেয়ে বিপিসি চিঠি পাঠালেও প্রতিষ্ঠানটি তার কোনো জবাব দেয়নি। এ বিষয়ে বসুন্ধরা অয়েলের সঙ্গে বিপিসির কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিও হয়নি।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, বসুন্ধরা অয়েলের প্ল্যান্টটি মূলত বিটুমিন উৎপাদনের জন্য অনুমোদন পেয়েছিল। সেখানে হার্ড ক্রুড আমদানি করে পরিশোধনের পর অর্ধেকের বেশি উৎপাদন বিটুমিনে রূপান্তর করা হয়। বাকি ৪৫ শতাংশেরও কম অংশ উপজাত হিসেবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন আকারে বিপিসিকে সরবরাহ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে শুরু হয় নতুন প্রক্রিয়া
বসুন্ধরা অয়েলের সর্বশেষ আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। পরিশোধিত জ্বালানি তেল বেসরকারি খাতে আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে মতামত দিতে বিপিসি চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়।
গত ২ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ অধিশাখার সিনিয়র সহকারী সচিব স ম আজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আবেদনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত পাঠাতে বলা হয়।
দুই দিনের সময়, ১১ সদস্যের কমিটি
মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর গত ১৪ জুলাই বিপিসি ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এত বড় নীতিগত বিষয়ে মতামত দিতে কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়।
বিপিসির সচিব শাহীনা সুলতানা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, বসুন্ধরা অয়েলের আবেদন অনুমোদিত হলে বিপিসি এবং এর অধীনস্থ তিন বিপণন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল, পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের বাজার হিস্যা, রাজস্ব এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থার বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতামূলক বাজার কাঠামো এবং বিওজিসিএলের আবেদনের আইনগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করে মতামত দিতে বলা হয়।
কারা আছেন কমিটিতে
১১ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানকে। সদস্যসচিব করা হয় ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মো. ইশতিয়াক হোসেনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন, পরিচালক (বিপণন) মুহাম্মদ আসাদুল হক, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিম, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীরুল ইসলাম।
প্রতিবেদন জমা, কিন্তু হয়নি কোনো সরাসরি বৈঠক
বিপিসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (২১ জুলাই) কমিটির মতামতসহ প্রতিবেদন বিপিসি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে বিষয়টির আরেকটি দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কমিটি গঠনের পর সদস্যদের কোনো সরাসরি বৈঠকই হয়নি। মাত্র দুই কার্যদিবসের সময়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে মতামত তৈরির প্রক্রিয়ায় কেবল ১৪ জুলাই জুম প্ল্যাটফর্মে একটি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কমিটির এক সদস্যও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে মাত্র একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ায় বিপিসির ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এলপিজির অভিজ্ঞতা টেনে নতুন শঙ্কা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে। চিনি, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ কিংবা লবণের বাজারে বিভিন্ন সময়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
তাঁদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা করলেও দেশে কখনো বড় ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে কখনো দাম বাড়িয়েছে, কখনো কমিয়েছে। কিন্তু সরবরাহ ভেঙে পড়া বা বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক সংকটে সাধারণ ভোক্তাকে পড়তে হয়নি। এমনকি গত মার্চে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ তা সামাল দিতে সক্ষম হয়।
এর বিপরীতে এলপিজি খাতের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় সরবরাহ সংকটের অজুহাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ সীমিত থাকায় এখনো দেশের অনেক এলাকায় ভোক্তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।
জ্বালানি খাতের একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বড় অংশ যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বাজারে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ জ্বালানি তেল দেশের পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতে সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব পড়বে প্রায় সব পণ্য ও সেবার দামে।
‘সরকারকে জিম্মি করার ঝুঁকি তৈরি হবে’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, বর্তমানে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি বেসরকারি খাতে চলে গেলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভোক্তারা।
তিনি বলেন, এলপিজি ও বিদ্যুৎ খাতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, কোনো খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বেড়ে গেলে তারা ধীরে ধীরে বাজার নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করে। পরে ভোক্তাদের স্বার্থে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটি যদি তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তখন বিভিন্নভাবে সরকারকে চাপের মুখে ফেলা সম্ভব হয়।
অধ্যাপক এম শামসুল আলমের ভাষ্য, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে শুধু ভোক্তারাই নয়, সরকারও একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
তাঁর মতে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তার পরিবর্তে যদি রাষ্ট্র নিজের দায়িত্ব বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সিপি




