দেশজুড়ে করোনার ভয়ঙ্কর তাণ্ডব, ২৪ ঘণ্টায় ১৬৪ মৃত্যু—১০ হাজার ছুঁই ছুঁই শনাক্ত

দেশজুড়ে ভয়ঙ্করভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। একই সময়ে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৯৬৪ জন, যা এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।

চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে করোনা ভয়ঙ্কররূপ ধারণ করেছে। গত ১ জুলাই ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২ জুলাই ১৩২ জন মারা যান। ৩ জুলাই ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৪ জুলাই ১৫৩ জনে মারা যান। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ২২৯ জনের। অন্যদিকে, মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮১ জনে।

সোমবার (৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪২ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৪ হাজার ২টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬২টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৬৪ জনের মধ্যে ৫৫ জনই খুলনার। এছাড়া ঢাকায় ৪০, চট্টগ্রামে ১৮, রাজশাহীতে ১৬, বরিশালে ৯, সিলেটে ৮, রংপুরে ১৬ এবং ময়মনসিংহে ২ জন মারা গেছেন।

মারা যাওয়াদের মধ্যে ১০৯ জন পুরুষ এবং ৫৫ জন নারী। এদের মধ্যে ১৫ জন বাসায় মারা গেছেন। ১ জনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১৫ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৭৮৫ জন এবং নারী ৪ হাজার ৪৪৪ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৮৩ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৪৭, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ১৮, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১২ এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের ৪ জন রয়েছেন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, করোনার ভয়ঙ্কররূপ চলছে চট্টগ্রাম জেলায়ও। এদিন চট্টগ্রামেও সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড হয়। ২৪ ঘণ্টায় ৫৬৯ শনাক্ত নিয়ে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগী গিয়ে দাঁড়াল ৬০ হাজার ৯২৭ জন। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৪৭ হাজার ৩৮১ জন। আর বিভিন্ন উপজেলার ১৩ হাজার ৫৪৬ জন। এদের মধ্যে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ৭২২ জন। এদের মধ্যে ৪৮২ জন চট্টগ্রাম নগরের। আর বিভিন্ন উপজেলায় মারা গেছেন ২৪০ জন।

এমএহক

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!