s alam cement
আক্রান্ত
৩২০১২
সুস্থ
৩০০৫৯
মৃত্যু
৩৬৬

ল্যান্ডিং স্টেশন/ গণপরিবহনের আড়ালে ইয়াবা ঢুকছে চট্টগ্রামে, যাচ্ছে দেশজুড়ে

0

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে কৌশল বদলাচ্ছে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীরা। কৌশলে সাম্প্রতিক সংযোজন ইয়াবাসহ মাদকের চালান পরিবহনে গাড়ি চালকদের ব্যবহার। সম্প্রতি পণ্যবাহী পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহন থেকে বড় বড় মাদকের চালান ধরা পড়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে গড়ে প্রায় প্রতিদিনই ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কক্সবাজার থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে সারা দেশে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়েও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে বিবিসির গবেষণা বলছে, দেশের জনসংখ্যার প্রতি এক হাজারে ইয়াবাসেবীর সংখ্যা ১০০।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফে একটি ইয়াবা বড়ি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় কেনাবেচা হয়। যা চট্টগ্রামে আসলে হয়ে দাঁড়ায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। লাভ অনেক বেশি হওয়ায় ওজন মেপে নয়, সংখ্যার পরিমাপের ভিত্তিতে ইয়াবা পরিবহনের ভাড়া ঠিক হয়। এক পিস ইয়াবা চট্টগ্রাম আনতে নেওয়া হয় ৪ থেকে ৫টাকা। এ হিসেবে ১ লাখ ইয়াবা বড়ি টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে আনতে নেওয়া হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। ইয়াবা পরিবহনের লেনদেন নগদে হয় না। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়।’

Din Mohammed Convention Hall

সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ এই নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তারা ওপার থেকে ইয়াবা থেকে এপারে সিণ্ডিকেটের হাতে তুলে দিচ্ছে। কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অনেকে প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও ইয়াবা সিন্ডিকেটের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

অভিযোগ আছে, ইয়াবার প্রসারে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে একশ্রেণীর পুলিশ সদস্যের যোগসাজশ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। চলতি বছর চট্টগ্রামে তিন পুলিশ সদস্য এবং গত বছর ৭ পুলিশ সদস্যকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছু অসৎ পুলিশ শাস্তির তোয়াক্কা না করেই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও ইয়াবার ভয়ানক প্রসার ঠেকাতে গত এক বছরে অন্তত ১০০ ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। তবে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত বেশিরভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন। তবে এতো কিছুর পরও মাদক সিন্ডিকেটের মূলে যেতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা বরাবরই ভিন্ন ও নতুন উপায় অবলম্বন করে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে সারা দেশের ইয়াবা ব্যবসার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা হলেও চট্টগ্রামকে ব্যবহার করা হয় ল্যান্ডিং স্টেশন হিসেবে। ইয়াবার বড় বড় চালানগুলো চট্টগ্রামে আনার পর তা বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। গা ঢাকা দিয়ে থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা আড়ালে থেকেই ইয়াবা ব্যবসায় কলকাঠি নাড়ছে।

এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি, সাঁড়াশি অভিযানের কারণে চট্টগ্রামে ইয়াবা ব্যবসা স্থবির হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বর্তমানে কক্সবাজারভিত্তিক সিন্ডিকেট অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।এর প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামেও।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘কিছুদিন আগেও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্পটে উন্মুক্ত কাউন্টারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি হতো। বরিশাল কলোনি, হালিশহরের ছোটপুল, বহদ্দারহাটসহ নগরীর ছোট-বড় অনেক পয়েন্ট এখন বন্ধ। প্রকাশ্য বিক্রি বলতে গেলে নেই।’

তিনি বলেন, ‘নগরের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে। অনেকেই মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় বর্তমানে মাদক মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা জানান, ‘সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর ইয়াবা পাচারকারীরা নিত্যনতুন কৌশল বেছে নিচ্ছে। পরিবহন চালকদের জড়িত করে মাদক চালান আনা-নেওয়া এখন নতুন একটি কৌশল। এটি উদ্বেগের। আমরা সতর্ক রয়েছি।’

র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মাশকুর রহমান বলেন, ‘আত্মরক্ষার জন্য ইয়াবা কারবারিদের অস্ত্রের ব্যবহার আগের তুলনায় বেড়েছে। নগরীতে প্রতিদিনই ইয়াবা পাচার হচ্ছে, আবার প্রতিদিন ধরাও পড়ছে। তবে পাচারের তুলনায় জব্দ হচ্ছে কম। সম্প্রতি মাদকের পাচার বেশি ধরা পড়েছে চালানের পরিবহনসহ। আমাদের সন্দেহ হলে তাদের আটক করি। তবে আটকের চেয়ে পাচারের সংখ্যা অনেক বেশি।’

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পরিবহন চালকদের ব্যবহারকে নিরাপদ ভেবেছে। র‌্যাব ও পুলিশ সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহনকেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি বড় চালান আটক করেছে।’

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm