দুর্নীতির কাঁটায় বিদ্ধ সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী সুদীপ বসাক

দুদকের শুনানিতে অভিযোগের পাহাড়

2

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত গণশুনানিতে অভিযোগের পাহাড় জমেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধেই এসেছে সর্বাধিক অভিযোগ। আত্মীয়-স্বজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ ও টেন্ডারে অনিয়মসহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে বিতর্কিত এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বীর উত্তম শাহ আলম মিলনায়নে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

যার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ, সেই সুদীপ বসাকই ছিলেন দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মঞ্চে বসা। পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই তাকে বেশ খোশমেজাজে দেখা গেছে। মঞ্চে থাকা অন্যান্যদের সঙ্গে মাঝেমাঝেই করছিলেন হাস্যরস। এ নিয়ে দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ মৃদু অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরে। তাদের কেউ কেউ সুদীপ বসাকের এই ধরনের উদ্ধত আচরণকে দুদক কমিশনারের সাথে বেয়াদবির শামিল বলে মন্তব্য করেছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল আলম নিজামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত গণশুনানিতে বক্তব্য দেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত গণশুনানিতে বক্তব্য দেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

নগরীর চন্দনপুরার অধিবাসী শামসুল হুদা সিদ্দিকী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের নভেম্বরে চসিকের টলি নম্বর-১২ হতে ৩৭ পর্যন্ত টলিসমূহের মেরামত বাবদ ভুয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাসুমন এন্টারপ্রাইজের নামে ভুয়া বিল তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।

সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগটি ছিল এডিবি কর্তৃক বরাদ্দকৃত হালিশহর গার্বেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জন্য নামে মাত্র কাজ করে ২৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ।

তৃতীয় অভিযোগ ছিল সাগরিকায় অ্যাসফল্ট প্ল্যান্টে ৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও সুদীপ বসাক আরো ১২৯ জন লোক নতুনভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। অধিকাংশ লোকই তার নিকটাত্মীয়।

সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে চতুর্থ অভিযোগটি ছিল সাগরিকা রোডে সিটি করপোরেশনের পাথর ডিপোতে ২ কোটি টাকার পাথর গ্রহণ ও বিতরণ হিসাবে গরমিল দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ।

এ সকল অভিযোগ তদন্ত করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন দুদক কমিশনার আমিনুল ইসলাম।

এখানেই শেষ নয়। সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে হালিশহর ট্রিজি ড্রোজার গাড়িতে জ্বালানি তেল সরবরাহে তেল আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন দারোগাহাটের মুনির উদ্দিন।

সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি। অভিযোগটি হলো ৫০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন দুই ইউনিট ওয়ে ব্রিজ সরবরাহ ও স্থাপন প্রকল্পের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে নিজের ভাই সুমন বসাকের প্রতিষ্ঠান গ্রিড এ ইঞ্জিনিয়ারংকে কাজ দেওয়া।

এ অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তা দুদকই তদন্ত করবে বলে জানান কমিশনার আমিনুল ইসলাম।

একই সাথে সুদীপ বসাকের ভাই সুমন বসাকের প্রতিষ্ঠান গ্রিড এ ওয়ান ইঞ্জিনিয়ারিংকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীননেক নির্দেশনা দেন তিনি।

সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ কাজে শ্রমিক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন মধ্যম হালিশহর আনন্দবাজারের অ্যাডভোকেট এমরান হোসাইন।

এতো সব অভিযোগ উঠলেও মঞ্চে বেশ হাস্যরসের সাথে কথা বলেছেন সুদীপ বসাক; যা দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছেন। সুদীপ বসাকের এই ধরনের আচরণকে দুদক কমিশনারের সাথে বেয়াদাপির সামিল মনে করছেন তারা।

সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে এতো সব অভিযোগ উঠা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে আনীত প্রত্যেকটা অভিযোগের সিদ্ধান্ত দেবেন দুদক। কোন অভিযোগের বিরুদ্ধে কী করণীয় তা দুদক আমাদেরকে জানাবে। দুদকের নির্দেশনা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএ/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

2 মন্তব্য
  1. Tanvir বলেছেন

    অভিযোগ প্রমান হওয়ার আগে এরকম ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে আক্রমন করে নিউস এই পত্রিকার মান কে প্রশ্নবিদ্ধ করল। আজাদি এবং অন্যান্য কোন পত্রিকা এভাবে এই নিউজ করেনি। উনি দুরনিতি মুক্ত প্রমান হলে তখন কি নিউস করবে? আজ উনি যে সামাজিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলেন তখন এটার দায় কে নিবেন?

  2. শুভ বলেছেন

    যিনি রিপোর্টটি করেছেন, মনে হচ্ছে দুদকের গণ শুনানি শুধু একজনের বিরুদ্ধে হয়েছে। আপনি মনে হচ্ছে সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই পাল্টে দিলেন। পেশাগত ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করা কতটা যুক্তিযুক্ত পত্রিকার উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ আশাকরি ভেবে দেখবেন। তবে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার আগে এভাবে নিউজ করা মনে হচ্ছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন