দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডিপজল পুলিশের জালে

বাসায় মিললো অস্ত্র, ইয়াবা, জাল টাকা—আটক স্ত্রী, দুই সহযোগী

0

ছিনতাইয়ের টাকা না পেয়ে বিকাশ এজেন্টের হাতের রগ কেটে দেয়া দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাত্তারশাহ প্রকাশ ডিপজলকে (৪১) আটক করেছে পুলিশ। ডিপজল তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, তার নামে ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসময় ডিপজলের কাছ থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র, জাল টাকা ও ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পতেঙ্গা থানা পুলিশ।

একইসময় ছিনতাইয় কাজে সহযোগিতা করার জন্য তার দুই সহযোগিকে এবং ইয়াবা ও জাল টাকা বিক্রির অভিযোগে ডিপজলের স্ত্রীকেও আটকের কথা জানায় পুলিশ।

সোমবার (৩জানুয়ারি) রাতে অভিযুক্তদের আটক করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। ডিপজল ছাড়াও আটকরা হলেন, ডিপজলের স্ত্রী রোজিনা বেগম (২৭), সহযোগী পটিয়া থানার জিরি ৭নং ইউনিয়নের রতন দেবনাথের ছেলে রাজু দেবনাথ (৩৬) ও নগরীর কোতোয়ালী থানার এসি দত্ত লেনের আব্দুল হাই এর ছেলে আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ (২২)।

তাছাড়া ছিনতাইকাজে অংশ নেওয়া অপর সহযোগী রুবেলকে পটিয়া থেকে আটক করতে গেলে সে কৌশলে পালিয়ে যায় বলেও জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। ডিপজল রাউজান উপজেলার কদলপুরের ফরিদ শাহ এর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর দুপুরে পতেঙ্গা থানার মাইজপাড়ায় ডিপজল ও তার দুই সহযোগী পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মো. আসলাম নামে এক বিকাশ বিক্রয় কর্মকর্তার কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনতাইয়ের জন্য পথ অবরোধ করে।

এসময় দুই সহযোগী টাকাভর্তি ব্যাগ টানাটানি করলে আসলাম তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় ডিপজল একটি ধারালো ছোড়া দিয়ে বিকাশ কর্মকর্তার দুইহাতের রগ কেটে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিকাশের পক্ষ থেকে তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে পতেঙ্গা থাানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করে।

তারই ধারাবাহিকতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর আকমল আলী রোডের খালপাড় এলাকার জাহাঙ্গীরের বিল্ডিং থেকে প্রধান আসামি ডিপজল, স্ত্রী রোজিনা ও সহযোগী রাজুকে আটক করে। এসময় ডিপজলের দেহ তল্লাশী করে একটি দেশীয় অস্ত্র, এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এবং ঘর থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৫০০ পিস ইয়াবা ও ৫টি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া আটক রাজুর দেওয়া তথ্যমতে নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিসহ (চট্টমেট্রো-ল-৯১০৭) অভিযুক্ত মারুফকে আটক করা হয়। ছিনতাইকাজে অংশ নেওয়া অপর আসামি রুবেলকে আটক করতে পটিয়ায় অভিযান চালালেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায় বলে জানায় পতেঙ্গা থানা পুলিশ।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ডিপজল একজন পেশাদার অপরাধী, আমরা তাকে শেষ পর্যন্ত আটক করতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক মামলায় আলাদা আলাদা তিনটি মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ডিপজল এতই ভয়ংকর যে সে টাকার জন্য সব ধরনের অপরাধ করতে পারে। ডিপজলসহ আটক আরও তিন আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পলাতক অপর আসামিকেও আটকের চেষ্টা চালনো হচ্ছে।

বিএস/কেএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm