ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬/ দুয়ারে কড়া নাড়ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’, জার্সির বাজারেও শীর্ষে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল
দরজায় কড়া নাড়ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’—ফুটবল বিশ্বকাপ। অপেক্ষা মাত্র পাঁচ দিনের। এরই মধ্যে বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। গোটা দেশ যেন ডুবে আছে ফুটবলপ্রেমে। তবে এই প্রেম আবার বিভক্ত নানা রঙে। কারও ভালোবাসার রঙ আকাশি-নীল, কারও হলুদ-সবুজ। কেউ সমর্থন করেন আর্জেন্টিনাকে, কেউবা ব্রাজিলকে। আবার অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন কিংবা পর্তুগাল। তবে সমর্থকদের সংখ্যার বিচারে শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। তাই প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে জার্সি গায়ে খেলা দেখার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ফুটবলপ্রেমীরা। আর সে কারণেই এখন জার্সির দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়।

চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট এলাকার জলসা মার্কেট—যা ‘জার্সি মার্কেট’ নামেই বেশি পরিচিত। শুধু বিশ্বকাপ মৌসুমেই নয়, বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই এখানকার দোকানগুলোতে বিক্রি হয় বিভিন্ন দেশ ও ক্লাবের জার্সি। তবে বর্তমানে দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। সামনে ফুটবল বিশ্বকাপ, তাই প্রতিটি দোকানেই উপচে পড়া ক্রেতার ভিড়। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে ক্রেতারা কিনছেন জার্সি, পতাকা ও নানা ধরনের সমর্থক সামগ্রী। কেউ বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছেন জার্সি কিনতে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা উপভোগের প্রস্তুতি হিসেবে দল বেঁধে কিনছেন একই দলের জার্সি। আবার অনেকে সন্তানদের আবদার মেটাতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। সব মিলিয়ে পুরো মার্কেটজুড়েই এখন বইছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা, যেন চারপাশে শুধুই ফুটবলের উৎসব।
ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, চার বছর পরপর আসা বিশ্বকাপের এই সময়টির জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রিয় দলের রঙের জার্সি গায়ে দিয়ে পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমর্থকদের মধ্যে চলে তর্ক-বিতর্ক, নিজেদের দলকে এগিয়ে রাখার নানান যুক্তি আর প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের সঙ্গে মজার খুনসুটি। এসব মিলিয়েই ফুটবল বিশ্বকাপ হয়ে ওঠে এক অনন্য আবেগের উৎসব। তাদের মতে, প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো সেই দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলা উপভোগ করা এবং দলের সাফল্যে উল্লাসে মেতে ওঠা। তাই বিশ্বকাপ এলেই জার্সি আর শুধু পোশাক থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে সমর্থকদের আবেগ, পরিচয় ও ভালোবাসার প্রতীক।
দোকানিরা জানান, বিক্রির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। তবে তুলনামূলকভাবে আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা ও বিক্রি বেশি। অন্যদিকে ব্রাজিলের জার্সির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তারা আরও জানান, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি পর্তুগাল, ফ্রান্স, স্পেনসহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় দলের জার্সিও বিক্রি হচ্ছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে জার্সির বিক্রিও।
ওই একটা শব্দ ফুটবল, যার জন্যে পাগলপারা কোটি কোটি মানুষ। আর ফুটবলের বিশ্বমঞ্চের আসরকে ঘিরে বাংলার বুকে জার্সি বেচাকেনা এমন ধুম বলে দেয়, এই দেশের মানুষ কতটা ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলটা না থাকলেও এখানকার মানুষ ইউরোপিয়ান কিংবা আমেরিকান ফুটবলের ছন্দে মেতে ওঠেন। বিশ্বকাপ এলেই যেন বাংলাদেশের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে জার্সি ও পতাকার ‘রঙিন উৎসব’।
ডিজে




