দুবাই থেকে এলো পার্টস, কাপ্তাইয়ে জোড়া, মুরাদপুরে শেষ কাজ, রহমতগঞ্জে আটক বিএমডব্লিউ

শুল্ক ফাঁকির অভিনব কৌশল

দুবাই থেকে চট্টগ্রামে বিএমডব্লিউ গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি করে, পরে জোড়া লাগিয়ে গাড়ির পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়। সেই গাড়িই পুরনো নম্বরে চলছিল সড়কে। বিষয়টি নজরে আসলে নগরীর কোতোয়ালীর রহমতগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএমডব্লিউ গাড়িটি আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে অভিযান চালিয়ে গাড়িটি আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দুবাই থেকে আমদানি করে পরে চট্টগ্রামে এনে সেগুলো জোড়া দিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি বিএমডব্লিউর রূপ নেয়। পুরনো একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে সড়কে চলাচল করছিল গাড়িটি।

জানা গেছে, ২০১৪ মডেলের বিএমডব্লিউটির বিভিন্ন অংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাসের পর কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা এলাকার একটি স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে গাড়িটি জোড়া লাগানোর পর নগরীর মুরাদপুর এলাকার একটি গাড়ির গ্যারেজে নিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়। তারপর গাড়িটি পূর্ণাঙ্গ বিএমডব্লিউ হিসেবে সড়কে চলাচল করে। স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগানো গাড়িটিতে একটি পুরনো বিএমডব্লিউর নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করা হয়। ব্যবহৃত নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১। পরে গাড়িটি নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার একটি ভবনের পার্কিংয়ে রাখা হয়।

গাড়িটির বর্তমান মালিক মোহাম্মদ আইয়ুব দেশের বাইরে থাকায় তার স্ত্রী সুলতানা ফারহানা জাহান গাড়িটির ক্রয় বা আমদানি সংক্রান্ত তথ্য কাস্টমস গোয়েন্দা টিমকে দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে র‍্যাব এবং কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা একাধিকবার গাড়ির চাবি চাইলেও গাড়ির মালিক চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, আঞ্চলিক কার্যালয়, চট্টগ্রামের নেতৃত্বে একটি গোয়েন্দা নিবারক দল কর্তৃক পার্কিংয়ে রাখা গাড়িটি আটক করে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের একটি দল অভিযান চালিয়ে চট্টমেট্রো-গ ১১-৩৬৫১ নম্বরের গাড়িটি আটক করে। সম্প্রতি মোংলা বন্দরে পুরাতন গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে বিলাসবহুল গাড়িকে তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে আমদানির কৌশল শনাক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের পদ্ধতিতে গাড়ি আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, গাড়িটির বর্তমান মালিক মোহাম্মদ আইয়ুব দেশের বাইরে থাকায় তার স্ত্রী সুলতানা ফারহানা জাহানের কাছে গাড়িটির ক্রয় ও আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে কোনো দলিল বা তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। একাধিকবার গাড়িটির চাবি চাইলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে আমদানি-সংক্রান্ত কোনো দলিল কিংবা গাড়ি কেনার নথি দেখাতে না পারা এবং গাড়ির চাবি না দেওয়ায় গাড়িটি জব্দ করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ জানান, মোংলা বন্দরে পৃথক পৃথক ইউজড কার পার্টস ঘোষণার আড়ালে সম্পূর্ণ বিলাসবহুল গাড়ি মাত্র তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে এসকেডি (সেমি নকড ডাউন) অবস্থায় আমদানির অভিনব কৌশল উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, আঞ্চলিক কার্যালয়, চট্টগ্রামের একটি নিবারক দল জামালখান ওয়ার্ডের রহমতগঞ্জের ৩৩ কেবি আবদুস সাত্তার সড়কের সাত্তার মঞ্জিলে (বিটিআই ভবন) অভিযান চালিয়ে বিএমডব্লিউ (গাড়ি নম্বর চট্টমেট্রো-গ-১১-৩৬৫১) আটক করে।

আরএ/ডিজে

ksrm