দুধে সিসা/ মামলা হল আড়ং, প্রাণ, ডেইরি ফ্রেশসহ ১০ কোম্পানির বিরুদ্ধে

0

উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় আড়ং, প্রাণ, মিল্কভিটাসহ পাস্তুরিত দুধের ১১টি নমুনা পরীক্ষা করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ‘ভারী ধাতব’ পেয়েছে। নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে ছয়টি ল্যাবে। নমুনা পরীক্ষায় ভারী ধাতব পাওয়ার ঘটনায় ১০টি পাস্তুরিত দুধ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৪ জুলাই) নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিদর্শক কামরুল হাসান ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়ের শেষে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ভারী ধাতবের উপস্থিতি পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ আমাকে মামলা করার ক্ষমতা প্রদান করেছে। ১০টি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলাটি করা দায়ের করা হয়। আদালত মামলা গ্রহণ করে আগামী মাসের বিভিন্ন দিনে শুনানির দিন ধার্য করেছে।

s alam president – mobile

মামলা দায়ের করা ১০টি কোম্পানি হচ্ছে- আড়ং ডেইরি, প্রাণ মিল্ক, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা), ইগলু, বারো আউলিয়া ডেইরি মিল্কের (ডেইরি ফ্রেশ), শিলাইদহ ডেইরি (আল্ট্রা মিল্ক), আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (ফার্ম ফ্রেশ মিল্ক), আফতাব মিল্ক, ইছামতি ডেইরি লিমিটেড (পিওর), সেইফ মিল্ক।

এর আগে এই ১১টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে সিসার উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানিয়ে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছিল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। একই প্রতিবেদনে উঠে আসে বাজারে বিক্রি হওয়া খোলা দুধের নমুনায় ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, পারমাণু শক্তি কমিশন, বিসিএসআইআর, প্লাজমা প্লাস, ওয়াফেন রিসার্চ ও আইসিডিডিআরবি’র ল্যাবে পাস্তুরিত দুধ, খোলা দুধ ও গোখাদ্য পরীক্ষা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

ছয়টি ল্যাবের পরীক্ষায় বিএসটিআই অনুমোদিত ১৪টি কোম্পানির ১১টির পাস্তুরিত দুধে সিসা পাওয়া গেছে। আবার একাধিক কোম্পানীর দুুধের নমূনায় পাওয়া গেছে ক্যাডমিয়াম।

Yakub Group

২৮ জুলাইয়ের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই ওই ১১ কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

উল্লেখ্য, ২৫ জুন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক এবং বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার কথা জানান। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার সবগুলিতেই মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক ‘লেভোফ্লক্সাসিন’ ও ‘সিপ্রোফ্লক্সাসিন’ এবং ছয়টিতে ‘এজিথ্রোমাইসিন’ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

সেই গবেষণায় উঠে আসে, পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত ১০টি নমুনার মধ্যে অপাস্তুরিত দুধের একটিতে ফরমালিন সনাক্ত হয়েছে। পাস্তুরিত তিনটিতে এবং অপাস্তুরিত দুধের নমুনার একটিতে ডিটারজেন্ট সনাক্ত করা হয়েছে। ওই গবেষণায় পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত উভয় দুধের নমূনাই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে অধ্যাপক ফারুক আরও বলেন, “মানুষ ও পশুর জন্য ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক সম্পূর্ণ আলাদা। গরুকে মানুষের এন্টিবায়োটিক দিলে, দুধ ও মাংসের মাধ্যমে তা আবার মানুষের শরীরেই প্রবেশ করে। যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বিষয়। যদি খাদ্যপণ্যে যত্রতত্রভাবে এসব ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহৃত হয়, তাহলে আমরা বাঁচবো না, মরে যাবো।”

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!